
বগুড়াসহ সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড (অনলাইনে জামিননামা দাখিল) কার্যক্রম চালু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজের সম্মেলনকক্ষে সুইচ টিপে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
আজ বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা ও কুষ্টিয়ায় একযোগে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এর আগে ৯টি জেলায়—নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর—এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ই-বেইলবন্ড পদ্ধতিতে বিচারকের স্বাক্ষরের পর বেইল বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যাবে। ফলে আটক ব্যক্তি কয়েক ঘণ্টা অথবা সর্বোচ্চ এক দিনের মধ্যেই মুক্তি পাবেন। মধ্যবর্তী অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো বিলুপ্ত হবে। তা ছাড়া কে কখন স্বাক্ষর করছেন, তা ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। বিচারপ্রার্থীরা অপ্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের যাতায়াত খরচ হ্রাসসহ সরকারের অপ্রয়োজনীয় কারা ব্যয় সাশ্রয় হবে।
আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ—এই তিনটির মধ্যে সমন্বয় করে দেশে ন্যায়শাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের শাসন মিলবে। অন্যথায় এ সুযোগ নাগরিকদের মিলবে না। বর্তমান সরকার দেশে ন্যায়শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। আদালত হয়রানির জায়গা নয়; বরং ন্যায়বিচার পাওয়ার নিরাপদ স্থল—এমন বিশ্বাস দৃঢ় হলে সমাজ থেকে মব ভায়োলেন্স দূর হবে বলে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি। এ জন্য বর্তমান সরকার ন্যায় এবং আস্থার জায়গা হিসেবে বিচার বিভাগকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় জনগণের হয়রানি লাঘব করতে সরকার প্রশাসন ও বিচারপ্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের অংশ হিসেবে বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে ই–বেইলবন্ড বাস্তবায়ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। যার ফলে আজ সাতটি জেলায় ই–বেইলবন্ড পদ্ধতি চালু হলো। দেশের সব আদালতে ই–বেইলবন্ড পদ্ধতি চালু করা গেলে জনগণের বিচার প্রাপ্তিতে বিলম্ব ও বৈষম্য দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সহায়ক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
ই–বেইলবন্ড জনগণের অহেতুক হয়রানি ও দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে আদালত থেকে জেলখানায় পৌঁছানো পর্যন্ত আইনজীবী, মহুরি, ম্যাজিস্ট্রেট, পিয়নসহ নানা পরিক্রমায় কমপক্ষে ১৩টি ধাপ পার হতে হতো। ই–বেইলবন্ড পদ্ধতি চালুর পর এখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে কিছু সময়ের মধ্যে জামিননামা পৌঁছে যাবে। এ কারণে বর্তমান সরকার সারা দেশে সব আদালতকে ই–বেইলবন্ড পদ্ধতির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।