বন্য শূকর
বন্য শূকর

জঙ্গলের ভেতর থেকে হঠাৎ দৌড়ে আসে বন্য শূকর, ধাক্কা দিয়ে ফেলে কামড়াতে থাকে

রাঙামাটির বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের কলাবুনিয়া বাজারে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আল্পনা চাকমা (৩৯)। পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। হঠাৎ জঙ্গলের ভেতর থেকে একটি বন্য শূকর দৌড়ে এসে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর পায়ে ও কোমরে কামড়ে দেয় তাঁকে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উজ্জাংছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দিবাগত রাত দুইটায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় কার্বারি প্রমিশ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ধ্যায় আল্পনা চাকমা কলাবুনিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজার থেকে ফেরার পথে উজ্জাংছড়ি রাস্তার পাশে জঙ্গল থেকে হঠাৎ একটা বড় বন্য শূকর দৌড়ে এসে তাঁকে ধাক্কা দেয়। এরপর পায়ে ও কোমরে কামড়ে দেয়। আল্পনা চাকমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে শূকরটি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় উজ্জাংছড়ি এলাকায় বন্য শূকরের আক্রমণের শিকার হয়ে এক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শওকত আকবর খান বলেন, গতকাল রাত আটটায় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে রক্ত দেওয়া হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে তাঁর। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাত দুইটায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরকল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন বলেন, ‘এ রকম খবর শুনিনি। এলাকাটি দুর্গম, খবর নিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’ তবে বন্য শূকরের আক্রমণে আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হয় না বলে জানান তিনি।