মো. রাব্বি হোসেনকে থানায় নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ
মো. রাব্বি হোসেনকে থানায় নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের ‘শুভেচ্ছা জানানোয়’ ছাত্রশক্তি নেতা বহিষ্কার, পুলিশে সোপর্দ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্যের ঘরে (কমেন্টে) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর অভিযোগে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আশুলিয়া থানা–পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বহিষ্কৃত মো. রাব্বি হোসেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই বাংলা এ কে ফজলুল হক হলে থাকেন।

আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য রাব্বি হোসেনকে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী মৃন্ময় দাস ফেসবুকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন নিয়ে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন। ওই পোস্টে ছাত্রশক্তির নেতা রাব্বি হোসেন ‘শুভ জন্মদিন আপা’ লিখে লাভ চিহ্ন দিয়ে মন্তব্য করেন।

রাব্বি হোসেনের ফেসবুক মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা তাঁকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এরপর বিকেল পৌনে চারটার দিকে আশুলিয়া থানা–পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যতটুকু জেনেছি, ওই ছাত্র ছাত্রলীগের কোনো একটি পদে ছিলেন। পরে আজ তাঁর স্ক্রিনশট ফাঁস হলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। পরে নিরাপত্তা স্বার্থে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। যেহেতু ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ সংগঠন, সেটার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’

তবে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি ব্যঙ্গাত্মক ছিল বলে দাবি করেছেন রাব্বি হোসেন। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে আমি “শুভ জন্মদিন আপা” সার্কাজম (ব্যঙ্গ করে) হিসেবে বলেছিলাম। আমি ২০২৪–এর আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং হাসিনার বিরুদ্ধে আমি লড়াই করেছি। আমি কখনো, কোনো দিনও আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলাম না।’

রাব্বি হোসেন গত বছর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে থানায় আনা হয়েছে। তিনি এখন থানাতেই আছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তথ্যপ্রমাণাদি পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।