বিভিন্ন অপরাধ দমনে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে আরও ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ
বিভিন্ন অপরাধ দমনে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে আরও ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ

খুলনায় বিশেষ অভিযানে আরও ৩৯ জন গ্রেপ্তার, ধরাছোঁয়ার বাইরে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে আরও ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে গত চার দিনে বিশেষ যৌথ অভিযানে ২২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা।

আজ কেএমপির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সদর থানা এলাকা থেকে ৯ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ৫ জন, লবণচরা থানার ১ জন, হরিণটানা থানার ৬ জন, খালিশপুর থানার ৪ জন, দৌলতপুর থানার ২ জন, আড়ংঘাটা থানার ৭ জন ও খানজাহান আলী থানা এলাকা থেকে ৫ জন আছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে পলাশ গ্রুপের নেতা শেখ পলাশ ওরফে ‘চিংড়ি পলাশের’ সহযোগী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী কাজী রাফসান মাহমুদ ওরফে পার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি চাঁদাবাজি, হত্যাসহ সাতটি মামলার আসামি। এ ছাড়া ১০ জন মাদক কারবারি ও ১ জন চোরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

খুলনায় ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সম্প্রতি বিশেষ অভিযান শুরু করে কেএমপি। গত বুধবার কেএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অপরাধবিষয়ক সভায় নগরজুড়ে সমন্বিত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবুর’ ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাব্বিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কেএমপির দক্ষিণ বিভাগের পৃথক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে একটি দেশি অস্ত্র উদ্ধার এবং ১১টি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। গত শুক্রবার ‘গ্রেনেড বাবুর’ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কসাই লিটন, রিফাতসহ ৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল গ্রেপ্তার করা হয় আরও ৬২ জনকে।

পুলিশ বলছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে অপরাধপ্রবণ এলাকা লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া, পুটিমারি, শিশুবাগান আশি বিঘা ও কৃষ্ণনগর এলাকায় চারটি অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বসানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফাঁড়িতে জনবল বৃদ্ধি এবং কয়েকটি এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহল শুরু হয়েছে। গত চার দিনের অভিযানে তালিকাভুক্ত চারজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত।

তবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা প্রথম আলোকে বলেন, সবকিছু পুলিশের নখদর্পণে। কিন্তু তাদের আন্তরিকতার অভাব আছে। বিশেষ অভিযানে শুধু চুনোপুঁটি ধরলে হবে না—চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিদের গ্রেপ্তার করে জনমনে আতঙ্ক দূর করাই এমন অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। চোর-ছ্যাঁচড় ধরলে সেটি লোকদেখানো অভিযান বলেই মনে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও দুর্বল নজরদারির সুযোগে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। খুলনা মহানগর ও জেলায় বর্তমানে ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম বেশি আলোচিত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রনি চৌধুরী ওরফে ‘গ্রেনেড বাবুর’ বি কোম্পানি, শেখ পলাশের পলাশ গ্রুপ, হুমায়ুন কবীরের হুমা বাহিনী, আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, টেংকি শাওন গ্রুপ, আরমান শেখের আরমান গ্রুপ, শাকিল শেখের শাকিল গ্রুপ এবং নাসিমুল গণির নাসিম গ্রুপ। এর মধ্যে আলোচিত গ্রেনেড বাবুর নেতৃত্বাধীন বি কোম্পানিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি অপরাধমূলক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে খুলনা নগরে ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব নিয়ে শুক্রবার প্রথম আলোয় ‘তারা প্রকাশ্যে খুন করে, প্রচারণা চালায়, দোয়া চায় ফেসবুকে’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আজ খুলনার মাদক পরিস্থিতি নিয়ে ‘মাদক বিক্রি হয় খুপরিতে, টাকা যায় “বড় ভাইদের” পকেটে’ শিরোনামে আরেকটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।