ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় ১৭ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাঁর নাম আসাদুজ্জামান খান ওরফে পিন্টু (৪৫)। তিনি উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব–৭ ফেনী ক্যাম্প ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২২ মে স্থানীয় সাহেবের হাট আলহাজ শফিউল্লাহ উচ্চবিদ্যালয়ের দপ্তরি মাহবুবুল হককে গুলি করে ও ছুরি মেরে হত্যা করেন সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় পরদিন মাহবুবুল হকের স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া বাদী হয়ে আসাদুজ্জামানসহ ১০ জনকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিচার চলাকালে ২০০৬ সালে জামিনে বের হয়ে গোপনে দেশের বাইরে পালিয়ে যান তিনি। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১১ সালে আদালত আসাদুজ্জামানসহ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। অন্য পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
র্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মুঠোফোন নম্বর ও ছবি সংগ্রহ করে ছদ্মবেশে খোঁজখবর নেন র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। সবশেষে গতকাল খবর পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুজ্জামান জানান, ২০১৫ সালে অসুস্থ হয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি প্রায়ই স্থান পরিবর্তন করতেন।
এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে আসামিকে ফেনী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।