সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সেচপাম্প। এই পাম্পের মাধ্যমে জমিতে দেওয়া হচ্ছে সেচ। সম্প্রতি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হায়াতপুর গ্রামের মাঠে
সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সেচপাম্প। এই পাম্পের মাধ্যমে জমিতে দেওয়া হচ্ছে সেচ। সম্প্রতি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হায়াতপুর গ্রামের মাঠে

উন্নয়ন সহযোগী

রোদই এখন সেচের শক্তি

বিদ্যুৎ-সংকট আর ডিজেলের বাড়তি দামের কারণে সেচের খরচ বেড়েই চলছিল। সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সেচ পাম্প। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হায়াতপুর গ্রামের কৃষকেরা এখন এক বিঘা জমিতে আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক খরচে সেচ দিতে পারছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি কমেছে সেচ নিয়ে অনিশ্চয়তাও।

গত ৩০ জুলাই হায়াতপুরে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের ঠিক মাঝখানে বসানো হয়েছে সৌরচালিত সেচ পাম্প। সেই পাম্প থেকে চারপাশের ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ৪২ কৃষক এই সেচ পাম্পের সুবিধা নিচ্ছেন।

যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে সেচ প্রকল্প

এই সেচ পাম্প একক কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়। স্থানীয় ২০ কৃষকের একটি কমিটির মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে। পাম্পটি স্থাপনে মোট ব্যয় হয়েছে ৮ লাখ টাকা। পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে উন্নয়ন সংস্থা ‘নবলোক পরিষদ’ খরচের ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে। বাকি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সেচ পাম্প পরিচালনা কমিটি বহন করেছে।

কমিটির কোষাধ্যক্ষ মাহাবুর রহমান বলেন, ‘যে কোম্পানির কাছ থেকে সোলার প্যানেল ও মোটর কেনা হয়েছে, তারা ২৪ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি দিয়েছে। ফলে এই পাম্প পরিচালনায় বাড়তি কোনো ঝক্কি নেই।’

নবলোক পরিষদের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম খলিল বলেন, পিকেএসএফের অর্থায়নে কৃষক কমিউনিটির স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে সৌরচালিত পাম্পটি স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকেরা যেন পাম্পটি নিজস্ব সম্পদে রূপান্তর করে যত্ন নেন, সে জন্য তাঁদের কাছ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ বছর পর্যন্ত যেন এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের মাঠে সেচ দেওয়ার জন্য আরও ১০টি ছোট ছোট সৌর পাম্প বসানো হয়েছে, যার প্রতিটি থেকে ১৫-২০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব।