পঞ্চগড়ের বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঢাকা পড়েছে কুয়াশার চাদরে। মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাহানপাড়া এলাকায়
পঞ্চগড়ের বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঢাকা পড়েছে কুয়াশার চাদরে। মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাহানপাড়া এলাকায়

পঞ্চগড়ে শরতের আকাশে হঠাৎ কুয়াশার দেখা

দেশের সর্ব–উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শরতের আকাশে দেখা মিলেছে কুয়াশার। ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠঘাট আর সড়কের ওপর নেমে এসেছে কুয়াশার পাতলা চাদর। যেন জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই কুয়াশার চিত্র দেখা গেছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খোলা মাঠ, নদীর পাড় আর ফাঁকা সড়কে ঝরছে সাদা কুয়াশা। পথের ঘাস আর ফসলের মাঠে সবুজ আমনখেতে ধানের পাতায় পাতায় জমেছে শিশির।

পঞ্চগড়ের প্রকৃতিতে অবশ্য শীতের আগমন অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা আগেই টের পাওয়া যায়। হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে শীত মৌসুমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এই এলাকার তাপমাত্রা সাধারণত কম থাকে। ভোরের কুয়াশা আর হিমেল বাতাস তখন বদলে দেয় পুরো জনপদের দৃশ্য। তবে এখনো শীতের সেই তীব্রতা না এলেও প্রকৃতি যেন নিয়ে এসেছে শীতের আগমনী বার্তা।

ধানের শিষে ভোরের শিশির। মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাহানপাড়া এলাকায়

আজ সকালে কাজে যাচ্ছিলেন হোটেল ও রেস্তোরাঁর শ্রমিক মো. মাসুম (৩০)। তিনি বলেন, ‘কয় দিন তকা (থেকে) রাতিত বাড়ি আসার সময় এই রকম কুয়াশা দেখাচু। কিন্তু আজি সকালে কুয়াশা দেখে মনডা কহচে, শীত চলে আইচ্চে।’

পঞ্চগড় শহরে সকালে ইজিবাইক নিয়ে এসেছেন মো. সোলেমান আলী (৫০) নামের এক চালক। তিনি বলেন, ‘আজি ভোর থেকে কুয়াশা পচ্ছে। বেলা উঠার পর কমে গেইছে। দিনোত গরমে রহা (থাকা) যায় না। কিন্তু কয় দিন থেকে শেষ রাতিত শীত শীত লাগেছে।’

এক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে বলে জানান তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায়। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার দেখা মিলছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, শরৎকালের শুরুতেই মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তা—দুটোই দেখা যায়। আকাশে বেশি সময় মেঘের অবস্থান থাকে। আবার কখনো তাৎক্ষণিকভাবে আকাশ থেকে মেঘ সরে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কুয়াশার মাধ্যমে এই জনপদের মানুষ শীতের আগমনী বার্তা পাচ্ছে।