
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সালিসের মধ্যেই পিটিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের উত্তর আমবাড়ি এলাকায় ওই ব্যক্তির নিজ বাড়িতেই এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম শফিউল আলম (৫৫)। তিনি পেশায় কৃষক। তিনি ওই এলাকার মৃত নূর বক্সের ছেলে। তাঁর বড় ভাইয়ের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারধরের বিচার চেয়ে এ সালিস ডাকা হয়।
পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা জানান, নিহত শফিউল আলমের বড় ভাই শামসুল আলমের ফকির আহমেদ (২৫) নামের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে রয়েছে। গতকাল কথা-কাটাকাটির জের ধরে একই এলাকার মো. রিপন (১৮) নামের এক তরুণ তাঁকে মারধর করেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে আজ শফিউল আলমের বাড়িতে সালিস ডাকা হয়েছিল।
এ বৈঠকে কথাবার্তার এক পর্যায়ে রিপন ও তাঁর সঙ্গে আসা নূর মোহাম্মদ (২৫), মেহেদী হাসান (১৮) মিলে শফিউল আলমের ওপর হামলা করেন। এ সময় দেশি ধারালো অস্ত্রের পেছনের অংশ দিয়ে শফিউল আলমের মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহমুদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর শফিউল আলমকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। ভারী কিছুর আঘাতে তাঁর মাথার মধ্যভাগ দেবে গেছে। তবে বাইরে কোনো রকম রক্তক্ষরণ হয়নি। মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে।’
শফিউল আলমের বড় ভাই নুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাই অতি সহজ সরল মানুষ। কৃষিকাজ করেই তাঁর সংসার চলত। বৈঠক চলাকালীন সময় রিপন ও তাঁর সঙ্গে আসা নূর মোহাম্মদ ও মেহেদী হাসান নামের তিন যুবক আমাদের ওপর আক্রমণ করে। একপর্যায়ে নূর মোহাম্মদ আমার ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আমি ভাই হত্যার বিচার চাই।’
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সালিসে হামলায় একজনের নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তদন্ত করে এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।’