সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার মাদারবাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন সিলেট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার মাদারবাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন সিলেট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে

সিলেটের একমাত্র নারী প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর, সঙ্গী স্বামী ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তা

গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এ–বাড়ি, ও–বাড়ি। কখনো গাড়িতে, কখনো হেঁটে, আবার কখনো রিকশায় চড়ে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছাকাছি। দোয়ার পাশাপাশি চাইছেন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট। নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এটিই এখন প্রতিদিনের রুটিন বলে জানান প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর। জেলার ৬টি আসনের ৩৩ প্রার্থীর মধ্যে তিনিই একমাত্র নারী।

তাহসিনা রুশদীর সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও আইনি জটিলতায় সেবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

স্থানীয় বিএনপির তথ্য অনুযায়ী, তাহসিনা রুশদীর আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গাড়িচালকসহ ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হন। এরপর থেকে স্বামীর নির্বাচনী এলাকায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন তাহসিনা। পরে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান।  ১৩ বছর ধরে তিনি এ আসনে রাজনৈতিকভাবে তৎপর।

নির্বাচনী প্রচারে বেশ সাড়া পাচ্ছেন দাবি করে তাহসিনা রুশদীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে বেড়াচ্ছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের সঙ্গে আমার সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছে।’

এই প্রার্থীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন দেশে সুষ্ঠু ভোট না হওয়ায় অনেক ভোটারের মধ্যে অনীহা আছে। এ কারণে তিনি ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য, ইলিয়াস আলী সিলেট-২ আসনে টানা তিনবার নির্বাচন করেছিলেন এবং দুবার বিজয়ী হন। জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত নেতা হওয়ায় এলাকাটি ‘ইলিয়াস আলীর আসন’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এখানকার ভোটারদের মধ্যে পরিবারের প্রতি আলাদা সহমর্মিতা আছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি পথসভায় স্বামী ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাহসিনা রুশদীর বলেন, ‘ইলিয়াস আলীকে গুম করার পর আমরা পারিবারিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। তখন আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন। আজও আছেন। অশ্রুসিক্ত চোখে আপনাদের কথা দিচ্ছি—আমি কখনো আপনাদের ছেড়ে যাব না।’

তাহসিনা রুশদীরের অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁর দুই ছেলে আবরার ইলিয়াস ও লাবিব শারর ইলিয়াসও নিয়মিত প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে সাধারণ মানুষ ভিড় করছেন। অনেকেই আবেগে জড়িয়ে ধরে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

ইলিয়াস আলীর ব্যক্তিগত সচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. ময়নুল হকের মতে, ১৩ বছর ধরে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের মানুষ ইলিয়াস আলীর ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এ নির্বাচনে তাঁর স্ত্রীকে ভোট দিয়ে মানুষ সেই অন্যায়ের জবাব দেবে।

সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর ছাড়াও চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী (দেয়ালঘড়ি), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা) ও গণফোরামের মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য)। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, এ আসনে তাহসিনা রুশদীরের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মুহাম্মদ মুনতাছির আলীর।