বাংলাদেশে টেক্সটাইল কেমিক্যাল উৎপাদন করবে জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিএইচটি। এই লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে (এমআইইজেড) কারখানা উদ্বোধন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদনকাজ শুরু হলেও এ মাসের শেষ দিকে কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে উৎপাদনে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আজ মঙ্গলবার সকালে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন সিএইচটি বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের কারখানাটি উদ্বোধন করেন। এ সময় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) পরিচালক তানজিমা বিনতে মোস্তফা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী সদস্য আলী আহসান, জার্মানভিত্তিক কেমিক্যাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিএইচটি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ফ্র্যাংক নওম্যান, গ্রুপের সিএফও অ্যাক্সেল ব্রিটলি, সিটিও বার্নহার্ড হেটিচ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল মজিদ বলেন, রাজধানীর খুব কাছেই মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনের অবস্থান। মহাসড়কের পাশে হওয়াতে এখানে যাতায়াতব্যবস্থা খুবই সহজ। এখানে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সিএইচটি এখানে টেক্সটাইল ডাইস ও কেমিক্যাল উৎপাদন করবে। এতে টেক্সটাইল খাতে আরও উন্নতি ঘটবে বলে আশা করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশ সরকার ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে দেশ খুব দ্রুত সব কটি খাতে উন্নতি করছে। করোনা মহামারির সময়ও দেশে অর্থনীতির চাকা সচল ছিল। তিনি আশা করেন, বিদেশি কোম্পানিগুলো এ দেশে তাদের বিনিয়োগ বাড়াবে। এ জন্য সরকার সব ধরনের সুবিধা দিচ্ছে।
ফ্র্যাংক নওম্যান জানান, সিএইচটি জার্মানির বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জিএমবিএইচের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম চলমান। বাংলাদেশে এই প্রথম প্রতিষ্ঠানটি তাদের কারখানা স্থাপন করেছে। ২ দশমিক ২ একর জমির ওপর নির্মিত কারখানাটিতে প্রাথমিকভাবে টেক্সটাইল কেমিক্যাল উৎপাদন করা হবে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদনকাজ শুরু হলেও এ মাসের শেষের দিকে কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন শুরু করবে।
সিএইচটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে কেমিক্যাল উৎপাদন করবে উল্লেখ করে ফ্র্যাংক নওম্যান বলেন, আগে যেসব কেমিক্যাল ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হতো, সেসব কেমিক্যাল এখন বাংলাদেশ থেকেই ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে খুব কম সময়ে ব্যবসায়ীরা পাবেন।
এমজিআইয়ের পরিচালক তানজিমা বিনতে মোস্তফা বলেন, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা সরকারের একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এরই মধ্যে দেশে তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে।
তানজিমা বিনতে মোস্তফা বলেন, প্রতিটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসই ও কার্যকর বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করছে এমজিআই। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত ইকোনমিক জোনটিতে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, জার্মানি, চীন, ভারত, নরওয়েসহ ১১টি বিদেশি কোম্পানির মোট ২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিগগিরই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সূচকের পরবর্তী ধাপে উন্নীত হবে।