
প্রথমে পুলিশ পরিচয়ে বাসায় ঢোকেন পাঁচ ব্যক্তি। এরপর বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি শুরু করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয় ঘরে থাকা নারী ও তাঁর দুই পুত্রবধূর। পরিচপত্র দেখতে চাইলে এবার বলেন, তাঁরা সাংবাদিক। বলতে থাকেন, এই ঘরে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চলছে, এমন তথ্য পেয়েছেন তাঁরা। একপর্যায়ে ওই তিন নারীর ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবিও করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আজ বুধবার হালিশহর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সাখাওয়াত হোসেন (৪০), মো. মাইনউদ্দিন (৪৬), মো. জাহিদ (৩০), মো. মোস্তাফিজ (৩৬) ও বাবুলকে (৩৬) আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মাইনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৫৫ বছর বয়সী ওই নারী তাঁর দুই পুত্রবধূকে নিয়ে বাসায় ছিলেন। তাঁর স্বামী ও দুই ছেলে কাজের সূত্রে বাইরে ছিলেন। এ সময় পাঁচ ব্যক্তি বাসায় ঢুকে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন। পরে তাঁরা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি শুরু করেন।
একপর্যায়ে মুঠোফোনে ওই নারী ও তাঁর দুই পুত্রবধূর ভিডিও ধারণ করতে থাকেন তাঁরা। বাসাটি নিজের বলে ওই নারী জানালেও তাঁরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, টাকা না দেওয়ায় একপর্যায়ে আসামিরা বাসায় ভাঙচুর করেন। তাঁদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চান। এ সময় ওই ব্যক্তিরা প্রতিবেশীদের সঙ্গেও হুমকিমূলক আচরণ করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে হালিশহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই পাঁচ ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে তাঁরা পুলিশ এবং পরে সাংবাদিক পরিচয় দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামিদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।