গোপালগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্লার গণসংযোগ। গত বৃহস্পতিবার কাশিয়ানী উপজেলা মহেশপুর ইউনিয়নের বাথানডাঙ্গায়
গোপালগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্লার গণসংযোগ। গত বৃহস্পতিবার কাশিয়ানী উপজেলা মহেশপুর ইউনিয়নের বাথানডাঙ্গায়

গোপালগঞ্জ-১ আসন

সেলিমুজ্জামানের প্রচারে সার্বিক কল্যাণসহ নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার শেষ মুহূর্তে সোমবার ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনের বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্লা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। এ ছাড়া তিনি হাটবাজারে জনসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ সার্বিক কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া তিনি এই আসনের নিরীহ লোকদের মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধসহ নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসন গঠিত। এই আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। সেলিমুজ্জান সেলিম ছাড়া অন্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতের মুহাম্মাদ আবদুল হামীদ, ইসলামী আন্দোলনের মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির সুলতান জামান, গণ অধিকার পরিষদের কাবির মিয়া এবং সিপিবির নীরদ রবন মজুমদার। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন আশরাফুল আলম, এম আনিসুল ইসলাম ও কাইউম আলি খান।

সেলিমুজ্জামান ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তাঁর জন্মস্থান গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এর পর থেকে তিনি এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। আগে থেকেই তিনি বিএনপির ৩১ দফা ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

সেলিমুজ্জামানের বাড়ি কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতী গ্রামে। তিনি নিজ বাসভবনে সোমবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বেলা পৌনে ১১টায় মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী থেকে আসা নির্মাণশ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মী ও পরে বাস মালিক সমিতির নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরে সেলিমুজ্জামান কাশিয়ানী উপজেলার কাশিয়ানী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ভোটারদের বাড়িতে যান। গ্রামে ও হাটবাজারে মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও লিফলেট বিতরণ করেন। এ ছাড়া তিনি চায়ের দোকানে বসে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেলিমুজ্জামান নেতা–কর্মীদের নিয়ে মিছিল করেন। মিছিলটি ভাটিয়াপাড়া হয়ে রাতইল ইউনিয়নে পৌঁছায়। সেখানে তিনি পথসভায় বক্তব্য দেন। তিনি বাজারের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সবার কাছে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করেন।

বেলা ১টার দিকে পুনরায় কাশিয়ানী হয়ে সাজাইল ইউনিয়নের সাজাইল এবং পরে মহেশপুর ইউনিয়নের বাথানডাঙায় মতবিনিময় করেন সেলিমুজ্জামান। এরপর তিনি বিকেল সাড়ে ৫টায় মুকসুদপুর পৌরসভার জনসভায় আসেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় তিনি উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম বাজারে মাঠে জনসভায় যোগ দেন।

সেলিমুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০০৮ সালে নির্বাচনে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অংশগ্রহণ করি। সেটা ছিল আমার প্রথম নির্বাচন। এ বছর নির্বাচনের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার জয়ের বিষয়ে আমি ভীষণভাবে আশাবাদী। এলাকার মানুষ আমাকে দলমতনির্বিশেষে কাছে টেনে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা–কর্মী আমাকে ভালোবেসে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তাঁরা আমার সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন।’

সেলিমুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ সার্বিক কল্যাণে অবদান রাখব। বিশেষ করে নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে কাজ করব। এ আসনের নিরীহ লোকদের মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধ করব।’