কুমিল্লায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। আজ শনিবার দুপুরে জেলার সার্কিট হাউসে
কুমিল্লায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। আজ শনিবার দুপুরে জেলার সার্কিট হাউসে

কুমিল্লাকে বিভাগ করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা করব: আমিন উর রশীদ

কুমিল্লাকে বিভাগ করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কুমিল্লা বিভাগ প্রসঙ্গে বিএনপি সরকারের এই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগ পাওয়ার যোগ্য। এ–সংক্রান্ত অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সামান্য কিছু জায়গায় বিষয়টি আটকে আছে। আমি কথা দিচ্ছি, কুমিল্লাকে বিভাগ করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করব।’

ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে কুমিল্লাকে আবারও ব্যাংক, ট্যাংক ও শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব, আমি কাজ করব। কুমিল্লার উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন, আমি তা করার চেষ্টা করব।’

আমিন উর রশীদ বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। আগামীর বাংলাদেশ হবে বাক্‌স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি ও ন্যায়ভিত্তিক অগ্রগতির বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কৃষি, শিক্ষা, শিল্পসহ সব খাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় প্রথম রপ্তানিমুখী কারখানা আমিই স্থাপন করেছিলাম। আজ কুমিল্লায় শিল্পের যে বিস্তার হয়েছে, সেটাকে শিল্পবিপ্লব বললেও ভুল হবে না। কুমিল্লার কৃষির যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিকে আরও শক্তিশালী করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। আমি নিজেও কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাঠের বাস্তবতা জানি। কৃষকবান্ধব নীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লাসহ সারা দেশের কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমিন উর রশীদ বলেন, ‘গোমতী নদী আমাদের জন্য সম্ভাবনার সোনার খনি। এটিকে কাজে লাগাতে হবে। কুমিল্লায় সবজি ও ডিম সংরক্ষণের জন্য কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, এ বিষয়েও আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।’

ব্যক্তিগত অঙ্গীকার প্রসঙ্গে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, কখনো এমপি হলে যে সম্মানী পাই, তা এই অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করব। এখন মন্ত্রী হয়েছি, আমি সেই অঙ্গীকারেই আছি। বর্তমানে আমি সরকারি গাড়িও ব্যবহার করি না, নিজের গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার করছি।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কাইয়ুমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।

পরে মন্ত্রী কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে পবিত্র রমজান মাসে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এর আগে সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার নেউরা এম আই উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।