
চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত রোববার সংঘর্ষে জড়ানো মুরাদ বাহিনীর প্রধান মো. মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি যুবদলের সংগঠক পরিচয় দেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলার পটিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা–পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলার পটিয়া থেকে মুরাদ বাহিনীর প্রধান মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, মো. মুরাদের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে বিক্রি করতেন মো. জসিম নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু বছরখানেক আগে দুজনের সম্পর্ক ভেঙে যায়। মুরাদের কাছ থেকে ইয়াবা নেওয়া বন্ধ করে অন্য উৎস থেকে মাদক সংগ্রহ শুরু করেন জসিম। গুরু মুরাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এলাকায় নিজের বলয় তৈরি করেন। গড়ে তোলেন কিশোর গ্যাং। এরপর মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, জায়গা দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শুরু হয় দুজনের বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে গত রোববার রাতে নগরের বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। শোনা যায় কয়েকটি বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ। আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে ঘরে ঢুকে পড়েন স্থানীয় লোকজন। পুলিশ বলছে, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় জসিমসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাকলিয়ার এই এলাকায় দুই পক্ষের বিরোধ নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে রোববার রাতের ঘটনা ছিল বড় আকারের। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১৫০ থেকে ২০০ লোক অংশ নেন। তাঁদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুরাদ বাকলিয়া এলাকার পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরে বসবাস করছেন। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তিনি নিজের একটি বলয় তৈরি করেন। স্থানীয়ভাবে সেটি ‘মুরাদ বাহিনী’ নামে পরিচিত।
মুরাদের ফেসবুক প্রোফাইলে নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিওও রয়েছে তাঁর প্রোফাইলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক, অস্ত্র ও মালামাল লুটের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরও তাঁর কর্মকাণ্ড থামেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজেকে নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হকের অনুসারী হিসেবেও পরিচয় দেন মুরাদ। তবে এমদাদুল হক বলেন, মুরাদ তাঁর অনুসারী নন। কারও অপরাধের দায় দল নেবে না। অপরাধী হলে তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত।
নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ প্রথম আলোকে বলেন, কোনো অপরাধীর জায়গা যুবদলে নেই। এ বিষয়ে দলের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। কোনো অপরাধীকে দলের কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন—এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মুরাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম।