‌সিলেটের বিয়ানীবাজারের জলঢুপ পাতন গ্রামে এক প্রবাসীর বা‌ড়ি। সম্প্রতি তোলা ছবি
‌সিলেটের বিয়ানীবাজারের জলঢুপ পাতন গ্রামে এক প্রবাসীর বা‌ড়ি। সম্প্রতি তোলা ছবি

সিলেটে প্রবাসীদের ফাঁকা বাড়ি পাহারায় আনসার নিয়োগের পরিকল্পনা

বিদেশে থাকা প্রবাসীদের ফাঁকা বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সিলেট জেলা প্রশাসন। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল বুধবার ওসমানীনগর উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শন ও একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ফাঁকে সাংবাদিকদের এ পরিকল্পনার কথা জানান।

বিষয়টি কন্ডিশনাল। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রক্রিয়া এগোবে। প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জেলা আনসার-ভিডিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। পরবর্তী সময় সিদ্ধান্ত হবে।
আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক, সিলেট

বর্তমান সরকার প্রবাসীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের ফাঁকা বাড়ি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনসার সদস্যদের মাধ্যমে বাড়ি পাহারার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হবে।

জেলা প্রশাসকের এ বক্তব্যের পর থেকেই প্রবাসী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি কন্ডিশনাল। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রক্রিয়া এগোবে। প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জেলা আনসার-ভিডিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। পরবর্তী সময় সিদ্ধান্ত হবে।’

সিলেট অঞ্চলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ বিদেশে বসবাস করেন। অনেক প্রবাসী যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে থাকেন। তাঁদের অনেকের বাড়িঘর বছরের পর বছর ফাঁকা পড়ে থাকে। প্রায়ই এসব বাড়ি ও জমি দখল কিংবা চুরির অভিযোগ ওঠে। এ কারণে প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জের অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রবাসীরা দেশে নিজেদের বাড়িঘর, জমিজমা ও অন্যান্য সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় উদ্বিগ্ন থাকেন। অনেক সময় দখল বা চুরির আশঙ্কাও থাকে। ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেও সেখানে জবাবদিহির ঘাটতি থাকে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবিত উদ্যোগটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রবাসীদের মধ্যে আস্থা বাড়বে। দেশের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে প্রবাসীরা নতুন করে বিনিয়োগে আরও উৎসাহিত হবেন।