Thank you for trying Sticky AMP!!

নিহত বারেক ও রমজান আলীর নওগাঁর বাড়িতে চলছে মাতম

বারেক সরদার (৪৫) ও রমজান আলী (৩৩)

সৌদি আরবের একটি আসবাবের কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত ৯ জন বাংলাদেশির মধ্যে বারেক সরদার (৪৫) ও রমজান আলীর (৩৩) বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। দুজনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর পরিবারে চলছে মাতম। পরিবারের হাল ধরা ব্যক্তির অকালমৃত্যুতে দিশাহারা দুই পরিবার।

স্বজনদের দাবি, দ্রুত লাশ দেশে এনে দাফন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। গত শুক্রবার রাজধানী রিয়াদ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে আল আহসা শহরের হুফুফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বারেক সরদার আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের উদয়পুর মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত রহমান সরদারের ছেলে। আর রমজান আলী সাহাগোলা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

বারেকের ভাই শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, বারেক ২০০৬ সালে সৌদি আরবে যান। এরপর সর্বশেষ ২০১০ সালে বাড়িতে এসেছিলেন বারেক। এরপর আবারও যান সৌদি আরবে। তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে। দুই বছর আগে স্ট্রোক করে অচল হয়ে যান বারেক। দীর্ঘ দেড় বছর চিকিৎসা শেষে পুনরায় সোফা কারখানায় কাজ শুরু করেন।

শাহাদত হোসেন বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার দাবি, দ্রুত যেন আমার ভাইয়ের লাশ আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’

অপর দিকে রমজান আলী দিনমজুর আজিজার রহমানের মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরেন। জমিজমা বিক্রি করে অনেক কষ্টে ২০১৯ সালে তিনি সৌদি আরব যান। এরপর চলতি বছরে বাড়িতে আসেন তিনি। পরে ছয় মাসের ছুটি শেষে আবার সৌদি যান রমজান আলী। ছুটিতে বাড়িতে এসে নতুন বাড়ির কাজ শুরু করেন।

Also Read: সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মৃত্যু, শেষ হয়ে গেল ছোট ছেলের ‘বড় দায়িত্ব’

পরিবারের লোকজন বলেন, রমজানেরা দুই ভাই ও এক বোন। বোন সুমি তাঁর ছেলেকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে থাকেন। সংসারের সব খরচ রমজানই বহন করতেন। সুমি বলেন, ‘আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন কেমন করে চলবে আমাদের এই সংসার। সরকারের কাছে দাবি, আমার ভাইয়ের লাশ যেন দ্রুত ফিরিয়ে আনা হয়।’

রমজানের মা রহিমা বেগম বলেন, দুই দিন আগেও ভিডিও কলে ছেলের সঙ্গে কথা হয়। ইটের ভাটায় গিয়ে ভিডিও কলে তাঁকে নতুন বাড়ির জন্য ইট দেখান। বাড়ির কাজ কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছে। ছেলের ব্যস্ততার কারণে আর কথা বলা হয়নি।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে এই উপজেলার দুজন মারা যাওয়ার তথ্য পেয়েছেন। তাঁদের লাশ দেশে আনার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

Also Read: মুঠোফোনে বিয়ে, সংসার শুরুর আগেই সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে স্বামীর মৃত্যু

Also Read: সৌদি আরবে অগ্নিদুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু