
বান্দরবানে আগামী ১৩ এপ্রিল শুরু হতে যাচ্ছে মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাইং। মাসখানেক আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় প্রতিবছর। তবে এবার বিপত্তি দেখা দিয়েছে জেলা বিএনপির দুটি পক্ষ উৎসব আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ায়। একই সময়ে একই স্থানে দুটি পক্ষই উৎসব আয়োজন করতে চায় বলে আজ বুধবার পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে।
আয়োজকদের দুটি পক্ষের মধ্যে একটি বিএনপির সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরীর অনুসারী ও আরেকটি মাম্যাচিং-জাবেদের সমর্থক বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।
গত বছর সাংগ্রাইং উৎসবের আয়োজক কমিটিতে ছিলেন বিএনপির মাম্যাচিং-জাবেদ পক্ষের নেতা-কর্মীরা। আজ বেলা ১১টায় ওই কমিটির নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা করেন এবারও তাঁরাই উৎসবের আয়োজনে থাকবেন। বান্দরবান প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি চ নু মং মারমা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর থুইসিংপ্রু লুবু , হ্লামংসিং মারমা, সাধারণ সম্পাদক উক্যসিং মারমা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অংথোয়াইচিং ও যুগ্ম সম্পাদক সাইন সাইন নু মারমা। তাঁদের মধ্যে চ নু মং মারমা, থুইসিংপ্রু, সাইন সাইন নু বিএনপির মাম্যাচিং-জাবেদ পক্ষের নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে তাঁরা কোনো দল বা রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে উৎসব আয়োজন করেন না দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত সূচিও তুলে ধরেন তাঁরা। এতে বলা হয়, ২৩ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল সাংগ্রাইং ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। মূল সাংগ্রাইং উৎসব হবে ১৩ এপ্রিল। ওই দিন পাহাড়ি সব জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ ও ১৬ এপ্রিল মৈত্রী পানিবর্ষণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চার দিনের সাংগ্রাইং উৎসব শেষ হবে।
এদিকে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শেষ হতে না হতেই সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী–সমর্থিত আরেকটি উৎসব উদ্যাপন কমিটি সাংগ্রাইং আয়োজনের ঘোষণা দেয়। রাজার মাঠে ৫ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৬ দিনব্যাপী সাংগ্রাইং আয়োজনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তাঁরা। এ জন্য বোমাং রাজার অনুমতিপত্রের কপিও দেখান নেতারা। এই উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের (কেএসআই) সাবেক সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা চথুইপ্রু জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরীর পৃষ্ঠপোষকতায় ১২ মার্চ ৮১ সদস্যের নতুন উদ্যাপন পরিষদ হয়েছে। সরকার বদল হলেই সচরাচর কমিটি বদল হয়ে থাকে।
তবে আগের উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি চ নু মং মারমা বলেন, একটি কমিটি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কাউকে না জানিয়ে নতুন আরেকটি উদ্যাপন পরিষদ গঠন করেছেন। বান্দরবানের ইতিহাসে সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসব নিয়ে এ রকম দলবাজি নজিরবিহীন ঘটনা। নতুন উদ্যাপন পরিষদ নয়, বিদ্যমান পরিষদই উৎসবের আয়োজন করবে।