মহান মে দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা–শ্রমিকদের সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশ থেকে চা–শ্রমিকদের ভূমির অধিকার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন শ্রমিকনেতারা।
আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ভাড়াউড়া চা–বাগানের দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালির আয়োজনে এ সমাবেশ হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গলের বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক মহব্বত হোসাইন, জেমস ফিনলে চা কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার তাহসিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ কথা কন্দ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রেমসাগর হাজরা প্রমুখ।
সমাবেশে যোগ দিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বালিশিরা ভ্যালির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস, ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে হাজারো শ্রমিক ভাড়াউড়া চা–বাগানে জড়ো হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থলে উপচে পড়া ভিড় সৃষ্টি হয়। পরে বেলা সাড়ে তিনটায় আলোচনা সভা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রায় দেড়-দুই শ বছর ধরে চা–বাগানে বসবাস করলেও শ্রমিকেরা এখনো ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাঁরা যাযাবরের মতো জীবন যাপন করছেন। চা–বাগানে স্বাস্থ্যসেবার মানও অত্যন্ত নিম্নমানের। শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মৌলিক অধিকার দাবি করে এলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে ভালো চাকরি পেতে পারে। নারী শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট–সুবিধা নেই। মাতৃত্বকালীন ছুটি মাত্র চার মাস, যা পর্যাপ্ত নয়। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলেও শ্রমিকদের রেইনকোট সরবরাহ করা হয় না। নারীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। গর্ভাবস্থায়ও শ্রমিকদের নিজস্ব মজুরি থেকেই সব ব্যয় বহন করতে হয়, ফলে পুষ্টিকর খাবারের অভাব দেখা দেয়।
সভাপতির বক্তব্যে বিজয় হাজরা বলেন, ‘প্রতিবছর মে দিবসে আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরি, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয় না। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার আমাদের দাবিগুলো পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। চা–বাগানে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নেই।’ ঝড়-বৃষ্টি ও দুর্যোগের সময় তাঁরা দুর্ভোগে পড়েন। তাই দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘চা–বাগানের মানুষের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। সংসদ সদস্য হওয়ার আগে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছি, এখন সরকারি উদ্যোগে কাজ করব। ইতিমধ্যে সংসদে চা–শ্রমিকদের বিষয়টি কয়েকবার তুলে ধরেছি। তাঁদের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে কাজ করে যাব।’