ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদের হস্তক্ষেপে ছেলেদের ঘরে ঠাঁই মিলেছে সালেহা বেগমের। ছবিতে দুই ছেলে ও মা সালেহার সঙ্গে ইউএনও। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পাতিবিলা গ্রামে
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদের হস্তক্ষেপে ছেলেদের ঘরে ঠাঁই মিলেছে সালেহা বেগমের। ছবিতে দুই ছেলে ও মা সালেহার সঙ্গে ইউএনও। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পাতিবিলা গ্রামে

মাকে দেখভালের দায়িত্ব বুঝে নিলেন ২ ছেলে, বৃদ্ধা সালেহার মুখে হাসি

বৃদ্ধা সালেহা বেগমের মুখে হাসি ফুটেছে। এখন তাঁকে একা থাকতে হবে না। জীবনের বাকি দিনগুলো তিনি ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে কাটাতে পারবেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের নির্দেশে ছেলেরা তাঁদের মাকে ঘরে তুলে নেন।

আজ মঙ্গলবার ইউএনও উপস্থিত থেকে মায়ের প্রতি সন্তানদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। এই দায়িত্বে অবহেলা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

সালেহা বেগম (৭৮) কালীগঞ্জ উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুই ছেলের দুটি পাকা বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে স্বামীর রেখে যাওয়া জরাজীর্ণ টিনের ঘরে থাকতেন। তাঁর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ছেলেরা তাঁকে ঘরে নেননি। এ নিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো অনলাইনে ‘আলাদা বাড়িতে দুই ছেলের সংসার, মায়ের ঠাঁই জরাজীর্ণ ঘরে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

দুই ছেলে আলাদা পাকা বাড়িতে বসবাস করলেও বৃদ্ধা মা সালেহা বেগম থাকেন জরাজীর্ণ এই ঘরে। গত বুধবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের উত্তর পাড়ায়

বিষয়টি ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ নজরে এলে তিনি বৃদ্ধা সালেহার দুই ছেলে আহাদ আলী (৫০) ও অমেদ আলীকে (৪৫) নিজ কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। খবর পেয়ে গত রোববার তাঁরা ইউএনও কার্যালয়ে যান। এ সময় ইউএনও তাঁদের কাছে জানতে চান, কেন তাঁদের বাড়িতে মায়ের ঠাঁই হয়নি। তখন তাঁরা ভুল করেছেন জানিয়ে মাকে ঘরে তুলে নেওয়ার কথা বলেন। এরপর আজ মা সালেহা বেগমকে বাড়িতে নিয়ে আসেন ছেলেরা। তিনি আপাতত বড় ছেলে আহাদ আলীর বাড়িতে থাকবেন।

আজ দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে সালেহা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি দুই ছেলেকে মায়ের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে আসেন। এই দায়িত্ব তাঁরা পালাক্রমে পালন করতে পারবেন। এ সময় সালেহা বেগম বলেন, পরিবারের সবার সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটাতে চেয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর সময় সবার মাঝে থাকতে চেয়েছিলেন। তাঁর সেই আশা পূরণ হওয়ায় তিনি খুবই খুশি।

যোগাযোগ করলে ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, ছেলেরা তাঁদের মাকে বাড়িতে তুলে নিয়েছেন। তিনি (সালেহা) তাঁদের সঙ্গে বসবাস করবেন। এই বয়সে মায়ের যেভাবে দেখভাল করতে হয়, সেটাও করবেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি সন্তানেরা তাঁদের দায়িত্ব অবহেলা করলে ভরণপোষণ আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়ে এসেছেন।

বৃদ্ধা সালেহা বেগমের সঙ্গে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পাতিবিলা গ্রামে

মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সঙ্গে সন্তানের বসবাস বাধ্যতামূলক করার বিধান রেখে ‘পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩’ নামে ২০১৩ সালে একটি আইন করে সরকার। এ ছাড়া সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নামে একটি বিল পাস হয়েছে। বিলে মা-বাবা সন্তানদের সম্পত্তি দান করার পরও জীবিত থাকা পর্যন্ত তা ভোগ করতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।