পিরোজপুরে শিশু হত্যার দায়ে ভগ্নিপতির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পিরোজপুরে শিশু হত্যার দায়ে ভগ্নিপতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মোহা. মহিদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

এ ছাড়া লাশ গুম করায় ওই আসামিকে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মারুফ খান (৩১) ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আনইলবুনিয়া গ্রামের আইউব আলী খানের ছেলে। হত্যার শিকার হাসিব হাওলাদার (৪) ভান্ডারিয়া উপজেলার তেওয়ারীপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে মারুফ খানের সঙ্গে হাবিবুর রহমানের মেয়ে রিমা আক্তারের বিয়ে হয়। ওই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর মারুফ খান স্ত্রী রিমা আক্তারকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। ১০ ডিসেম্বর সকাল আটটার দিকে রিমা আক্তারের ছোট ভাই হাসিব হাওলাদার বাড়ির উঠানে খেলা করছিল। মারুফ তাঁর শ্যালক হাসিব হাওলাদারকে বাড়ির সামনের সড়কে নিয়ে যান। এরপর তাকে পাশের একটি বাড়ির বাগানে নিয়ে হত্যা করে লাশ নালার মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। ঘটনার দুই দিন পর ১২ ডিসেম্বর পুলিশ মারুফ খানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের কাছে মারুফ খান শিশু হাসিবকে হত্যা করে লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেন। পরে মারুফ খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাশের বাড়ির বাগানের একটি নালার কাদার মধ্যে লুকিয়ে রাখা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় হাসিবের বড় ভাই নাসির হাওলাদার বাদী হয়ে মারুফ খানকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০২০ সালের ১০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ মঙ্গলবার বিচারক আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সরদার ফারুক আহমেদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফাতেমা আক্তার।