
যশোর-৪ (অভয়নগর, বাঘারপাড়া ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। এই আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন। ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এই আসনে একক প্রার্থী দিয়ে দুবারই ৫০ হাজারের কম ভোট পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করে জামায়াত। এবার এই আসনে একক প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। জামায়াতের প্রার্থী গোলাম রছুল ৪৪ হাজার ৯৯৫ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীকে পরাজিত করেন। গোলাম রছুল পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯১২ ভোট এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মতিয়ার রহমান ফারাজী পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯১৭ ভোট।
যশোর-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক টি এস আইয়ূব। তবে ঋণখেলাপি হওয়ায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়। পরে এই আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মনোনয়ন দেয় অভয়নগর বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজীকে। এতে ক্ষুব্ধ টি এস আইয়ূবের সমর্থকেরা ধানের শীষ প্রতীকের জন্য ভোট না করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য ভোট করেন বলে অভিযোগ আছে। আর এতেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হন।
গত শনিবার সন্ধ্যায় বাঘারপাড়া বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা হয়। সভায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, টি এস আইয়ূব ও তাঁর সমর্থকদের অসহযোগিতার কারণে ধানের শীষের পরাজয় হয়েছে। মতবিনিময় সভায় বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বাঘারপাড়া বিএনপির সহসভাপতি ও বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, ‘বাঘারপাড়ায় জামায়াতের ভোট আছে ১০ পার্সেন্ট। টি এস আইয়ূব ষড়যন্ত্র করে মতিয়ার রহমান ফারাজী ও জামায়াতের প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট করেছেন। আওয়ামী লীগের যেসব লোকজন আছেন, তিনি তাঁদের কনভিন্স করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন। রায়পুর ইউনিয়নের বিএনপির পদধারী নেতারা ওপেন দাঁড়িপাল্লার ভোট করেছেন।’
এই সভার প্রতিবাদে শনিবার রাতে বাঘারপাড়া উপজেলার ব্র্যাক মোড়ে টি এস আইয়ূবের বাসভবনে দলীয় কয়েক শ নেতা-কর্মী নিয়ে একটি সভা হয়। সভায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে টি এস আইয়ূব বলেন, ‘ঋণখেলাপি বহু লোক ছিলেন। তাঁরা কোর্টের মাধ্যমে ওভারকাম করে গেছেন। আপনারা আমাকে জড়িয়েছেন। কোর্টের বারান্দায় আপনার ছেলে, আপনার সাংগঠনিক সম্পাদক, আপনার নেতৃবৃন্দ ব্যাংকের পক্ষে অবস্থান নেন। তাঁরা পয়সা ইনভেস্ট করেছেন, উকিল নিয়োগ করেছেন, নিজেরা শ্রম দিয়েছেন, সার্বক্ষণিক কোর্টে থেকেছেন, কাজ করেছেন, আমার বিরুদ্ধে লড়েছেন। তখন কষ্ট লাগে না?’
টি এস আইয়ূব বলেন, ‘আমি মতিয়ার রহমান ফারাজীর সঙ্গে এই কয়দিন ভোট করেছি, থেকেছি। আমার কোনো আচরণে উনি বলতে পারবেন, আমি ধানের শীষের বিরুদ্ধে কোনো আচরণ করেছি? অভয়নগরে ৩২ থেকে ৩৩ হাজার ভোটে আপনি হারলেন কেন? নিজের কেন্দ্রে আপনি হারলেন কেন? আমরা গেছি হারাতে? আমার দোষটা কী?’
এর জবাবে মতিয়ার রহমান ফারাজী বলেন, ‘এই আসনে ধানের শীষ হারার কথা নয়। আমাকে সাবোটাজ করে হারানো হয়েছে। টি এস আইয়ূব এবং দলের অঙ্গসংগঠনে থাকা তাঁর লোকজন ভেতরে ভেতরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট করেছেন। নিশ্চিত বিজয়ী হওয়া একটি আসনে আমরা পরাজিত হয়েছি।’