ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধিকাংশ পেট্রলপাম্প ও ফিলিং স্টেশনে নেই জ্বালানি তেল। সেখানে জেলার আখাউড়া উপজেলার তন্তর বাজারের এক ব্যবসায়ী মোটরসাইকেলের চাকায় রং দিয়ে সঠিক দামে তেল বিক্রি করছেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধিকাংশ পেট্রলপাম্প ও ফিলিং স্টেশনে নেই জ্বালানি তেল। সেখানে জেলার আখাউড়া উপজেলার তন্তর বাজারের এক ব্যবসায়ী মোটরসাইকেলের চাকায় রং দিয়ে সঠিক দামে তেল বিক্রি করছেন

আখাউড়ায় চাকায় রং দিয়ে নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি, সংকটের মধ্যে খুচরা ব্যবসায়ীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও জ্বালানি তেলের সংকটে অধিকাংশ পেট্রলপাম্প ও ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি না থাকায় ভোগান্তিতে আছেন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে আখাউড়া উপজেলার তন্তর বাজারের এক ব্যবসায়ী মোটরসাইকেলের চাকায় রং দিয়ে নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন।

জ্বালানির সংকটের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে এবং একজন চালক যেন একাধিকবার তেল নিতে না পারেন, সে জন্যই এ পদ্ধতি চালু করেছেন ওই ব্যবসায়ী। প্রতিদিন আলাদা রং ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একই মোটরসাইকেল একাধিকবার তেল নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। উদ্যোগটি গ্রাহকদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তন্তর বাজারে মেসার্স হেলেনা হাজারী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি খুচরা জ্বালানি তেলের দোকানে এভাবে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল দেওয়া হয়। তেল দেওয়ার পর মোটরসাইকেলের সামনের চাকায় রঙের দাগ দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার দিনভর যাঁরা সেখানে তেল নিয়েছেন, তাঁদের সবার মোটরসাইকেলের চাকায় নীল রং লাগানো হয়েছে।

মোটরসাইকেলের চাকায় রং দিয়ে নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি করছেন আখাউড়া উপজেলার তন্তর বাজারের ‘মেসার্স হেলেনা হাজারী এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি খুচরা জ্বালানি তেলের দোকানের মালিক

গতকাল বিকেলে ওই দোকানে তেল নিতে যান ধরখার এলাকার বাসিন্দা মোটরসাইকেল আরোহী মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, ‘জেলা সদরের বিভিন্ন পাম্প ও দোকানে তেল নেই। দুপুর থেকে বিভিন্ন পাম্পে ও দোকানে গিয়েছি। কিন্তু কোথাও তেল পাইনি। খবর পেয়ে তন্তর বাজারের দোকান থেকে তেল নিতে গিয়েছি। এখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি তেল নেওয়ার পর চাকায় রং দেওয়া হচ্ছে। ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। অন্তত তেল তো মিলছে, তা–ও সরকার নির্ধারিত মূল্যে।’

শহরের কান্দিপাড়ার বাসিন্দা শফিকুল আলম বলেন, গতকাল সোমবার দুপুরে শহর ও সদর উপজেলার পাঁচটি পেট্রলপাম্প ও তিনটি দোকানে গিয়েও তেল পাননি তিনি।

দোকানটির মালিক আবুল হোসেন হাজারী বলেন, ‘আমার পাশের একটি পাম্প বন্ধ আছে। তেল কম পায় বলে তাদের গাড়িভাড়া দিয়ে পোষায় না। আমি যতটুকু তেল পাচ্ছি, সেটা কম করে বিক্রি করছি। একজন যেন একাধিকবার তেল নিতে না পারেন, সে কারণে চাকায় রং লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একেক দিন একেক ধরনের রং লাগানো হচ্ছে। তেল নিয়ে যত দিন সমস্যা থাকবে, তত দিন এভাবেই বিক্রি করব।’

আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, জ্বালানি তেলের বিষয়ে নজরদারি আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তন্তর বাজারের ব্যবসায়ী যদি এমন করে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় এটি ভালো উদ্যোগ।