
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে দেশি ধারালো অস্ত্রসহ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত এক নেতাকে আটক করেছে বিজিবি। আজ শনিবার ভোরে উপজেলার আউলিয়ার হাট সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে আজ দুপুরে বিজিবির করা মামলায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তির নাম আতিক হাসান (২৫)। তিনি পাটগ্রাম থানার পশ্চিম শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি এবং উপজেলার সীমান্তপাড়া এলাকার বজলার রহমানের ছেলে।
৬১ বিজিবির (তিস্তা ব্যাটালিয়ন) সূত্র জানায়, আজ ভোরে ব্যাটালিয়নের অধীন পঁয়ষট্টি বাড়ি বিওপির একটি টহল দল বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের মেইন পিলার–৮৪৬–এর কাছে বাংলাদেশের ভেতরে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখতে পেয়ে অভিযান চালায়। এ সময় আতিককে আটক করা হলেও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য দুজন পালিয়ে যান। আতিকের কাছ থেকে প্রায় ২ ফুট ২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২ ইঞ্চি প্রস্থের একটি দেশি লম্বা ধারালো ছুরি (চাকু) ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শেখ মোহাম্মদ মুসাহিদ মাসুম বলেন, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি অতীতেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, এখনো নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে।
আজ দুপুরে ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে আতিক হাসানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে তাঁকে পাটগ্রাম থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক মুঠোফোনে বলেন, বিজিবির দায়ের করা মামলায় আতিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আগামীকাল রোববার তাঁকে লালমনিরহাট আদালতে সোপর্দ করা হবে। আতিকের অন্য দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে পাটগ্রাম সাংগঠনিক পূর্ব থানা শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আলমগীর খোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, আতিক হাসানের সঙ্গে চার বছর ধরে সংগঠনটির কোনো সম্পর্ক নেই। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাঁকে ২০২১ সালে বহিষ্কার করা হয়।