নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় লোকালয়ে কুমিরের দেখা পাওয়া গেছে। যে পুকুরে কুমিরটি অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি প্রায় এক একর আয়তনের। উপজেলার তিনগাঁও এলাকায়
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় লোকালয়ে কুমিরের দেখা পাওয়া গেছে। যে পুকুরে কুমিরটি অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি প্রায় এক একর আয়তনের। উপজেলার তিনগাঁও এলাকায়

নারায়ণগঞ্জে লোকালয়ে থাকা কুমিরটির দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি, সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তিনগাঁও এলাকায় লোকালয়ে দেখা পাওয়া কুমিরটির গত দুই দিনেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ সোমবার রাতে বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গত দুই দিন কুমিরটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। যে পুকুরে কুমিরটি অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি প্রায় এক একর আয়তনের। সেখানে আরও কয়েকটি ছোট পুকুর রয়েছে। পুকুরগুলো কচুরিপানায় ঠাসা থাকায় কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

কামরুল ইসলাম আরও বলেন, ওই এলাকায় বন বিভাগের লোকজন রাখা হয়েছে। কুমিরটি পুকুর থেকে বের হলে বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়া হবে। তারা এসে কুমিরটি উদ্ধার করবে। এ জন্য উদ্ধারকারী দলও প্রস্তুত রয়েছে।

গত শনিবার রাতে তিনগাঁও এলাকায় প্রথম কুমিরটি দেখা যায়। পরে বন্য প্রাণী ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুমিরের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। গতকাল রোববার ঢাকার বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী দল পুকুরে জাল ফেলে কুমিরটি ধরার চেষ্টা করেও সফল হয়নি।

কুমিরটি কীভাবে তিনগাঁওয়ের লোকালয়ে এল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার আশপাশে কোনো নদী নেই। কাছের নদীও অনেক দূরে। কুমিরটি কীভাবে সেখানে এসেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কামরুল ইসলাম বলেন, এটি মিঠাপানির কুমির। সাধারণত মাছ খেয়ে এগুলো জীবন ধারণ করে। কেউ আঘাত বা উত্ত্যক্ত না করলে সহজে মানুষের ক্ষতি করে না। খাবারের সংকট হলে মুরগি বা কুকুরের মতো ছোট প্রাণী শিকার করতে পারে। এ কারণে মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা কম। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের কুমিরটিকে আঘাত বা হত্যা না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কুমিরটিকে লোকালয়ে হেঁটে যেতে এবং কয়েকজন ব্যক্তিকে পেছন থেকে সেটিকে ধাওয়া করতে দেখা গেছে।

উপজেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুকুরে না নামতে, পুকুরের পাড়ে না যেতে এবং কুমিরের কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও না করতে বলা হয়েছে। কুমিরটিকে ধরতে, তাড়াতে বা আঘাত করতেও নিষেধ করা হয়েছে। শিশু ও গবাদিপশুকে পুকুর ও আশপাশের এলাকা থেকে দূরে রাখতে বলা হয়েছে। এ জন্য সতর্কতায় এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।

কুমিরটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে নিজে ঝুঁকি নিয়ে সেটিকে ধরার চেষ্টা না করে বন বিভাগ বা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব না ছড়িয়ে উদ্ধারকারী দলের কাজে সহযোগিতা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।