ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরে তাঁকে ছিনিয়ে নিতে সেখানে ভাঙচুর চালায় জনতা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তোলা। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরে তাঁকে ছিনিয়ে নিতে সেখানে ভাঙচুর চালায় জনতা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তোলা। ছবি: সংগৃহীত

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারতে জিম্মায় চায় জনতা, উদ্ধার করে পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ছয় বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির এক স্বজনকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শিশুটিকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পিটুনি দিয়ে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরে হেফাজতে নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আশুগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়।

নিহত শিশুটি একটি মাদ্রাসায় পড়ত। তার লাশ বেলা আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।

শিশুটির এক স্বজন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল তাঁদের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অভিযুক্ত তরুণ শিশুটির স্বজন। গতকাল দুপুরে শিশুটিকে পানি এনে দিতে বলেন ওই তরুণ এবং তাকে নিজ ঘরে নিয়ে যান।

ওই স্বজনের ভাষ্য, শিশুটির মা ছোট ছেলেকে চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে খুঁজছিলেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির ঘরের সামনে গিয়ে মেয়ের কথা জানতে চান। অভিযুক্ত তরুণ শিশুটিকে দেখেননি বলে জানান। তবে ঘরের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখে তাঁর সন্দেহ হয়।

কাপড় আনতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির ঘরে মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করি। তখন সে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। পরে দরজায় জুতা দেখে সন্দেহ হয়। পাশের একটি ঘরে মেয়ের লাশ পাই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
শিশুটির মা

পরে ঘরের ভেতর গিয়ে বিছানায় শিশুটিকে দুই হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন মা। একপর্যায়ে স্বজনেরা শিশুটিকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় জানিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির হোসেন বলেন, তার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।

শিশুটির মা মর্গের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাপড় আনতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির ঘরে মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করি। তখন সে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। পরে দরজায় জুতা দেখে সন্দেহ হয়। পাশের একটি ঘরে মেয়ের লাশ পাই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

স্থানীয় তিন–চার হাজার জনতা উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মেরে ফেলতে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও লোকজনের সহায়তায় তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে পুলিশের হেফাজতে নেয়
শাহ মো. আবদুর রউফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার

এদিকে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে একটি বাড়িতে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে বেলা সোয়া তিনটার দিকে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রাখে। তখন স্থানীয় লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশসহ জেলা শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হেলমেট পরিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ওই বাড়ি থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। পুলিশ লাঠিপেটা করে তাঁদের সরিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এর আগে স্থানীয় তিন–চার হাজার জনতা উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মেরে ফেলতে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও লোকজনের সহায়তায় তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে পুলিশের হেফাজতে নেয়।