রাজশাহী সিটির ওয়ার্ড পরিক্রমা: ওয়ার্ড নম্বর ২৭

সরু নালায় জলাবদ্ধতা

অলিগলিতে সড়ক ও নালা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নালার বেশির ভাগ জায়গায় ময়লা–আবর্জনা জমে পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকে।

কাঁচা রাস্তার পাশে নালাও সরু। বর্ষাকালে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় এই রাস্তা। গত রোববার রাজশাহী নগরের টিকাপাড়া গোরস্তানের পশ্চিম পাশে
ছবি: প্রথম আলো

রাজশাহী নগরের টিকাপাড়া গোরস্থান হয়ে একটি রাস্তা চলে গেছে উত্তর দিকে। একপর্যায়ে রাস্তাটি ফুরিয়ে যায়। সেখানে নালার ওপর স্ল্যাব বসানো। ওই স্ল্যাব পার হয়ে কিছুদূর পর আবার রাস্তা শুরু। আবার ওই গোরস্থানের ঠিক পশ্চিম পাশে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গোরস্থান আর ওই বিদ্যালয়ের মাঝখান দিয়ে একটি রাস্তা চলে গেছে উত্তর দিকে। রাস্তাটি কাঁচাই রয়ে গেছে। সেখানে বর্ষায় জমে হাঁটু পানি।

এই অবস্থা রাজশাহী নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডে বেহাল রাস্তার পাশাপাশি পানিনিষ্কাষণ ব্যবস্থাও খারাপ। অলি–গলিতে সড়ক ও নালা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নালার বেশির ভাগ জায়গায় ময়লা–আবর্জনা জমে পানিপ্রবাহ আটকে থাকে। নালাগুলো প্রশস্ত নয়। কোথাও কোথাও নালার ওপর স্ল্যাবও বসানো হয়নি। ভারী বৃষ্টি হলেই পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলের কার্যালয়ের একেবারে সামনের রাস্তায়ও নালায় স্ল্যাব বসানো হয়নি। এই কারণে এই ওয়ার্ডে মশার উৎপাত বেশি।

নগরের টিকাপাড়া গোরস্থানের পূর্ব পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তা হঠাৎ শেষ হয়ে যায় শান্তিবাগ এলাকায়। এরপর পশ্চিম পাশে একটি স্ল্যাব বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই স্ল্যাব পাড়ি দিয়ে কিছুদূর রাস্তা নেই। ওইটুকু পাড়ি দিয়ে পাকা রাস্তায় উঠতে হয়। রাস্তার ওই অংশের জন্য বড় গাড়ি চলতে পারে না। এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, এই রাস্তার মাথায় এসে অনেকেই ফিরে যান। দেড় বছর ধরে এই অবস্থা।

ওয়ার্ডের টিকাপাড়া গোরস্থানের পশ্চিম পাশে কাঁচা রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগের কথা বলেন বাসিন্দা মোতাহার হোসেন। তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে বোধ হয় আর কোথাও কাঁচা রাস্তা নেই। এই রাস্তার আশপাশে অন্তত ৫০টি পরিবার থাকে। বৃষ্টি হলে হাঁটুপানি জমে যায়। স্কুলের শিক্ষার্থীরা হাঁটুপানি পাড়ি দিয়ে স্কুলে যায়। তারা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।

২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াপুকুর বড় বটতলা এলাকা থেকে সাধুর মোড় যাওয়ার রাস্তাটি পাকা করা হয়েছে বছর দেড়েক। এই রাস্তার নিমতলা এলাকায় রাস্তার প্রায় মাঝখানে একটি কালভার্টের স্ল্যাব ভেঙে গেছে। পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে আছে। স্ল্যাবটি প্রায় দুই মাস আগে ভেঙে গেলেও এটি সংস্কার করা হয়নি। ওই এলাকার বাসিন্দা খোদেজা আক্তার বলেন, দুই মাস ধরে এই স্ল্যাব ভেঙে পড়ে গেছে। কেউ ঠিক করতে আসেনি। এলাকার লোকজন একটি বাঁশের মধ্যে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে দিয়েছে। যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে।

ওয়ার্ডের কয়েকটি রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। আবার কিছু রাস্তার কাজ অর্ধেক করার পর বন্ধ রয়েছে। ওয়ার্ডের মীরেরচেক এলাকা থেকে বালিয়াপুকুর ছোট বটতলা পর্যন্ত রাস্তার অর্ধেক পাকা করা হয়েছে। তবে মীরেরচেকের অংশে এক কিলোমিটারের বেশি রাস্তা খানাখন্দে ভরা। ওই এলাকার বাসিন্দা আক্তার আলী বললেন, প্রায় ১০ বছর হল এই রাস্তায় পিচ পড়েনি। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপি করেন। এই কারণে এই ওয়ার্ডে খুব বেশি বরাদ্দ দেয়নি।

নগরের এই ওয়ার্ডেও নালাগুলোর পানিপ্রবাহ বিভিন্ন জায়গায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নালাগুলোতে পলিথিনসহ অন্যান্য আবর্জনা জমে আছে। শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা বিলকিস আক্তার বলেন, ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয় অনেক দিন পর পর। লোকজনও সচেতন নন। তাঁরা বাড়ির ময়লাও ড্রেনেই ফেলে দেন।

সিটি করপোরশনে নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ২৩ মে পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া যাবে। বাছাই ২৫ মে এবং আগামী ১ জুনের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আনোয়ারুল আমিন। তিনি এই ওয়ার্ডের বিএনপির সাবেক সভাপতি। ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজারের বেশি। অনেকেই ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোট চেয়ে পোস্টার সাঁটিয়েছেন। বিভিন্ন চায়ের স্টলে আগামী ভোট নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

কাউন্সিলর আনোয়ারুল আমিন বলেন, তিনি ২০০২ সালের পর থেকে টানা চার বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সাধ্যমতো এলাকায় উন্নয়ন করেছেন। গত পাঁচ বছরে ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে অলিগলির উন্নয়নে একটি বিশেষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি।

কাঁচা রাস্তার বিষয়ে আনোয়ারুল আমিন বলেন, ওই রাস্তার পাশে টিকাপাড়া গোরস্থান রয়েছে। সেখানে সংস্কার কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলেই ওই রাস্তাটি পাকা করা হবে। নালা পরিষ্কার করার বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকায় প্রচুর নতুন নালা হয়েছে। পরিষ্কার করার লোকবলের সংকটও রয়েছে। তবে ওয়ার্ডে বাইরে থেকে আসা বসবাসরত কিছু বাসিন্দা ময়লার গাড়িতে আবর্জনা না দিয়ে সরাসরি নালায় ফেলে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি অনেকবার সতর্ক করেছেন। কিন্তু তারপরও বিষয়টি ঘটে চলেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বর্তমান কাউন্সিলর বলেন, ওয়ার্ডের উন্নয়নে অনেক টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেই কাজগুলো তিনি শেষ করতে চান। এ ছাড়া এলাকায় সাক্ষরতার হার বাড়ানোর জন্য তিনি নৈশ বিদ্যালয় চালু করবেন।