সিলেটে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে
সিলেটে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে

তরুণদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময়, সরকারে গেলে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার

বিদেশগামী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনগোষ্ঠীতে পরিণত করার পরিকল্পনা বিএনপির রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এখন প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রায় ১০ লাখ মানুষ বিদেশে যান। এর মধ্যে অন্তত ৭ লাখই আনস্কিলড (অদক্ষ)। তাই তাঁর পরিশ্রম দেশের কিংবা তাঁর নিজের সেভাবে কোনো কাজে আসছে না। ফলে বিদেশগামীদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ হিসেবে তৈরি করতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সিলেট শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে সিলেটের ১৯টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত অন্তত শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে একজনের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, বিএনপি সরকারে গেলে নারীর যথাযথ ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে কাজ করবে।

তারেক রহমানের সঙ্গে তরুণ জনগোষ্ঠীর ‘দ্য প্ল্যান’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয়ে টানা এক ঘণ্টা চলে। পরে তিনি নগরের সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় রাস্তার দুই পাশে হাজারো মানুষ তারেক রহমানকে অভিবাদন জানান।

বিএনপির চেয়ারম্যান মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বলেন, অনেকে যে দেশে যাচ্ছেন, তাঁর সেসব দেশের সংস্কৃতি, ভাষা সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। তাই কোনো দেশে যাওয়ার আগে সেখানকার সংস্কৃতি, ভাষা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। তাঁর দল সরকার গঠন করলে এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারেক রহমান জানান, জনশক্তি নেওয়া দেশগুলো আগামী ১০ থেকে ১২ বছরে কোন ধরনের স্কিলড লোক নেবে, সেটা রিসার্চ করে বের করে সরকারের পক্ষ হতে সে অনুযায়ী বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তারেক রহমান বক্তব্যের শুরুতেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুরবস্থা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি লাস্ট এসেছিলাম সিলেটে ২০০৫ সালে। সুনামগঞ্জে বন্যা ছিল, রিলিফ কাজে আমি এসেছিলাম। তখন আমার আসতে সময় লেগেছিল সাড়ে ৪ বা ৫ ঘণ্টা। এই মুহূর্তে ঢাকা থেকে আসতে বা সিলেট থেকে যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা প্লাস সময় লাগে। আপনারা সিলেটের মানুষ সবাই, অনেকেরই হয়তো বা লন্ডন যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। আপনি যতক্ষণ গাড়িতে করে সিলেট থেকে ঢাকায় যাবেন, তার আগে ফ্লাইটে বোধহয় লন্ডন চলে যেতে পারবেন।’

তরুণদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান জানান, তাঁর দল সরকার গঠন করলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদানসহ মানুষের নানা সুবিধা নিশ্চিত করবে। এ সময় তিনি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চিকিৎসাব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ নানা বিষয় নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা উপস্থাপন করেছেন। মানুষের অসুখবিসুখ কমিয়ে আনতে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়েও তাঁরা নজর দেবেন বলে জানান।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশে নারীরা নানাভাবে ডিপ্রাইভ (বঞ্চিত)। এ ছাড়া সামাজিকভাবেও তাঁদের নানা ধরনের বাধ্যবাধকতা আছে। তাই নারীর যথাযথ ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে আমাদের পরিকল্পনা আছে। বিএনপি যে ফ্যামিলি কার্ড সবাইকে দেওয়ার কথা বলছে, এটা দেওয়া হবে পরিবারের প্রধান নারীকে, যিনি সংসার চালান। এতে মানসিকভাবে ওই নারী শক্তিশালী হবেন, পরিবারে তাঁর সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে।’

পরিবেশসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ঢাকায় কমবেশি প্রতিদিন ৭ হাজার টন আবর্জনা জমা হয়। ঢাকায় যত্রতত্র ময়লা পড়ে আছে। এসব থেকে জীবাণু শরীরে যাচ্ছে। এটা হতে থাকলে ১০ থেকে ১২ বছর পর দেখা যাবে, মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। ময়লা তো হবেই, সেটা কী করে কমানো যায়, এ সচেতনতা বাড়াতে হবে।’ একটি দেশে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা দরকার উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি প্রতিবছর ৪ থেকে ৫ কোটি গাছ লাগাবে।’ এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী সরকার আইটি পার্কের নামে বড় বড় বিল্ডিং তৈরি করে ফেলে রেখেছে। আমরা এটাকে ডেভেলপমেন্ট করব। আমরা আপনাদের (তরুণদের) প্রপার ওয়ার্কিং স্পেস দেব।’

অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও তাহসিনা রুশদীর লুনা, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে তারেক রহমান আকাশপথে গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে সিলেটে আসেন। পরে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পাশাপাশি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরও জিয়ারত করেন।

পরে তারেক রহমান নগরের উপকণ্ঠে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে তিনি তাঁর প্রয়াত বাবার মতো দেশে পুনরায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করার প্রত্যয় জানিয়ে ধানের শীষে ভোট চান।

আজ সাত স্থানে জনসভা

তারেক রহমান সিলেট ছাড়াও আজ আরও ছয়টি জেলার ছয়টি স্থানে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। তাঁর প্রথম জনসভা চলছে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে। এখানে তিনি প্রধান অতিথির ভাষণ শেষে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। পথিমধ্যে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক-সংলগ্ন ছয় জেলায় আয়োজিত সভায় ভাষণ দেবেন। এর মধ্যে প্রথমে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এবং পরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন।

পরে তারেক রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদীর পৌর পার্কে ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার অথবা রূপগঞ্জ গাউসিয়া এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেবেন। এসব জনসভায় তিনি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন।