চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে নির্বাচন করেন এনসিপির মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে নির্বাচন করেন এনসিপির মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ

জামানত হারাচ্ছেন চট্টগ্রামে এনসিপির একমাত্র প্রার্থী

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) একমাত্র প্রার্থীই জামানত হারাচ্ছেন। চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে নির্বাচন করেন মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ। তিনি আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ পাননি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দুই আসনের সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ এবং ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৯ ভোট পেয়ে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আবু নাছের ৫৩ হাজার ৫৬৪ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান ৪২ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়েছেন। বাকি চারজনই জামানত হারিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। এ আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫৮ বা ৪৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। সে হিসাবে এ আসনে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট হবে ৩২ হাজার ৬০০–এর আশপাশে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৯ ভোট। অর্থাৎ জামানত বাঁচানোর শর্তের চেয়ে প্রায় ২৯ হাজার কম ভোট পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল আলম পেয়েছেন ১ হাজার ২০৮ এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ এমদাদুল হক ৮৮৪ ভোট পেয়েছেন।

জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৩টিতে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী), চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনগুলো ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দলকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দেওয়া হয়। তবে এ আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর সরে দাঁড়িয়ে, পরে আবার নির্বাচনে নামেন জামায়াতের আবু নাছের।