চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)
চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)

সিইউএফএল চালুর দুই দিনের মাথায় আবার সার উৎপাদন বন্ধ

টানা ছয় মাস গ্যাস–সংকটের কারণে বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছিল চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। কিন্তু চালুর দুই দিনের মাথায় আবারও কারখানাটির ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি বন্ধ করে দিতে হয়। কারখানা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর কারখানাটিতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়। এরপর গত মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। দুই দিন পর আজ ভোর চারটার দিকে আরসি পাম্পের সিল লিকেজ দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কারখানার কর্মকর্তারা জানান, আরসি পাম্পের ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হলেও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ আগামী শনিবার পর্যন্ত কম থাকবে। এ কারণে ত্রুটি মেরামত হলেও শনিবারের আগে সিইউএফএলে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে না।

সিইউএফএল চালু থাকলে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ৩৮ হাজার টাকা হিসাবে দৈনিক প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে কারখানাটির। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে কারখানাটি।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত দুই বছরে কখনো যান্ত্রিক ত্রুটি, আবার কখনো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মাত্র পাঁচ দিন কারখানাটি চালু ছিল। এরপর ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। টানা প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর ওই বছরের ১৩ অক্টোবর আবার উৎপাদন শুরু হয়।

তবে ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ মেরামতের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে কারখানাটি চালু করা হয়। এরপর প্রায় দেড় মাস চালু থাকার পর ১১ এপ্রিল গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, এরপর টানা প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ২ নভেম্বর কারখানাটি চালু করা হয়। কিন্তু চালুর দিনই আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে ২ মার্চ আবার উৎপাদন শুরু হলেও গ্যাস–সংকটের কারণে ৪ মার্চ কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সবশেষে টানা ছয় মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর পাঁচটার দিকে উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু দুই দিনের মাথায় আজ ভোর চারটার দিকে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।

সিইউএফএল সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।

সিইউএফএলে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কারখানাটি পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন কারখানাগুলো, সিইউএফএলসহ প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে। চাহিদার বাকি প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করতে হয়।

সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর জাপানের কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করে সরকার। চালুর সময় কারখানাটির দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ও বার্ষিক ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে পারে কারখানাটি।

এ ছাড়া দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন ও বছরে ৩ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে সিইউএফএলের।