দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় পাকা সড়ক নির্মাণের সময় ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছেন উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় পাকা সড়ক নির্মাণের সময় ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছেন উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম

প্রকৌশলীর ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ফেসবুকে, বললেন—‘আমি কি এক হাজার টাকা নেওয়ার প্লেয়ার?’

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর সঙ্গে ঠিকাদারপক্ষের এক ব্যক্তির কথিত ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রায় দেড় মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঠিকাদারপক্ষের এক ব্যক্তি উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলামকে বলছেন, ‘কয় টাকা, কয় টাকা লিবেন (নেবেন)।’ জবাবে হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘১০ হাজার টাকা দাও আজকে।’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘বছরে ১০ হাজার লয় (নয়), এক হাজার দেই আপনাক।’ এ সময় হামিদুল ইসলাম চলে যেতে উদ্যত হলে ওই ব্যক্তি আবার বলেন, ‘এক হাজার টাকা দেই আপনাক।’ তখন হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘দরকার নেই কোনো টাকার।’

ভিডিওর আরেক অংশে ওই ব্যক্তি হামিদুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘কত, কত দিব, কত দিব, কওয়া (বলা) লাগবে না সেই কথা।’ তখন হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ হাজার দাও। হ্যাঁ, পাঁচ হাজার দাও।’ ক্যামেরার পেছনে থাকা ব্যক্তি অবাক হয়ে জানতে চান, ‘পাঁচ হাজার টাকা?’ তখন হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দিন তো করছি (প্রজেক্ট ভিজিট) না আমি, আজকে করলাম না তোমার জন্য।’ এর জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আজ কি করলেন, কন তো। পাঁচ হাজার হবে না, দেড় হাজারের মতো আছে।’ তখন টাকা না নিয়ে চলে যেতে যেতে হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেও না, থাক।’

ভিডিওর শেষাংশে ঠিকাদারপক্ষের ওই ব্যক্তিকে হামিদুল ইসলামের পকেটে এক হাজার টাকার কয়েকটি নোট ঢুকিয়ে দিতে দেখা যায়।

জানা গেছে, গত ঈদের আগে উপজেলার ৪ নম্বর দিওড় ইউনিয়নের শোলাহার গ্রামে এডিবির অর্থায়নে ২৭৫ মিটার সিসি সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ওই সড়কের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলামের সঙ্গে ঠিকাদারপক্ষের এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য গতকাল ও আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে গিয়েও হামিদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তাঁর অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য দিতে চাননি সহকর্মীরা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উপসহকারী প্রকৌশলী বলেন, তিনি বিশ্রামে বাইরে আছেন এবং ছুটির জন্য আবেদন করেছেন।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘১০ হাজার টাকা দাবি করে আমি ১ হাজার টাকা নেব? এগুলো কোন ধরনের কথাবার্তা ভাই? আর ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি দিয়ে করা। আমি কি এক হাজার টাকা নেওয়ার প্লেয়ার? আমি ১০ হাজার টাকা চেয়ে ১ হাজার টাকায় রাজি হয়ে গেলাম, আর নিলাম?’

বিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, ‘সকালে অনলাইনে উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলামের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, এটি আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানাব। আর হামিদুল ইসলামের কাছে লিখিতভাবে জানতে চাইব। তিনি কী জবাব দেবেন, এটার ওপর ভিত্তি করে তদন্ত সাপেক্ষে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁর (হামিদুল) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ঠিকাদার বা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এভাবে কোনো ধরনের টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।’