ফেনীতে এবি পার্টির আয়োজনে রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। আজ বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে
ফেনীতে এবি পার্টির আয়োজনে রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। আজ বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে

ফেনীতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান

বুর্জোয়া শ্রেণিচরিত্রে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ‘পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব এবং বুর্জোয়া শ্রেণিচরিত্রে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। জনগণ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পার্থক্য নির্ণয় করবে তাদের শাসনব্যবস্থার চারটি বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর। সেগুলো হলো দুর্নীতি, দলীয়করণ, সন্ত্রাস ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। সাধারণ মানুষ দেখবে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর কী কী পরিবর্তন এসেছে। তারা যদি কোনো পরিবর্তন খুঁজে না পায়, তাহলে হতাশা ও ক্ষোভ তাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।’

আজ শুক্রবার বিকেলে ফেনীতে এবি পার্টির আয়োজনে এক রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু এ কথাগুলো বলেন।

ফেনী জেলা এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক আফলাতুন বাকীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সদস্যসচিব প্রভাষক ফজলুল হকের সঞ্চালনায় শহরের মিজান রোডে দলের জেলা কার্যালয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এবি পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম ও জেলা আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ।

এবি পার্টির ছয় বছরের পর্যালোচনামূলক বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা খুব সাফল্য অর্জন করতে পারিনি। পুরোনো দলগুলোর এখনো কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি। ঋণখেলাপি, দুর্নীতিবাজ, অর্থশালী ব্যবসায়ী ও নির্যাতিত-নিপীড়িত হিসেবে পরিচিতদের পাশাপাশি ধর্মীয়ভাবে মানুষের আবেগকে যাঁরা স্পর্শ করতে পেরেছেন, তাঁরা এবারও জনগণের ভোট পেয়েছেন। তবে নতুনদের প্রতি মানুষের আগ্রহ যে তৈরি হচ্ছে, তা এবারের ভোটের ফলাফলে অনেকটা স্পষ্ট। এই আগ্রহ ও সম্ভাবনাকে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী করতে পারলে নতুন রাজনীতির জয় অবশ্যম্ভাবী।’

মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম সংস্কার। এ জন্য নির্বাচন পিছিয়ে চেয়েছিলাম; কিন্তু বিএনপি সংস্কার না চেয়ে দ্রুত নির্বাচন চেয়েছে। বিএনপি দেখছে, এ সংস্কার করলে তাদের ক্ষতি হবে। এ জন্য তারা আগে নির্বাচন চেয়েছে। যদি সংস্কার হতো, তাহলে তাদের অন্তত ১৫০ জন এমপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না। আমাদের সিস্টেমটা পুরোনো। সিস্টেম রয়ে গেলে পুরোনো দলের সুবিধা। যতক্ষণ পর্যন্ত সিস্টেম পরিবর্তন করা না যাবে, ততক্ষণ সংস্কার সম্ভব নয়।’

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক শাহ আলম শাহীন সুলতানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মির ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক নাজরানা হাফিজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ বি সিদ্দিক, এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক শফিউল্লাহ পারভেজ, সদস্যসচিব ইব্রাহিম সোহাগ, ছাত্রপক্ষ ফেনী জেলা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ দলের বিভিন্ন ইউনিটের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী।