চাঁদার দাবিতে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীর কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনির সরদারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার ধামুরা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার পর সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি।
গ্রেপ্তার মনির সরদার উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ ধামুরা গ্রামের মৃত হামেদ সরদারের ছেলে। তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রকিবুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে ড্রেজার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলার প্রধান আসামি মনির সরদারকে শনিবার রাতে ধামুরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মনিরুল ইসলাম চুক্তিভিত্তিক বালু ভরাটের কাজ করেন। উপজেলার শোলক ইউনিয়নে বালু ভরাটের জন্য তিনি পাইপ স্থাপন করে কাজ শুরু করেন। গত ৪ জানুয়ারি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনির সরদারের নেতৃত্বে সাত থেকে আটজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে বাধ্য হয়ে তিন দফায় এক লাখ টাকা দেন। বাকি এক লাখ টাকা আদায়ের জন্য গত শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ ধামুরা গ্রামের রাঢ়ী বাড়ির সামনে ছাত্রদল নেতা মনির সরদার আসেন। এ সময় তাঁকে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ড্রেজারের মেকানিক আবু বক্কর হাওলাদারকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবারই মনির সরদার ও তাঁর এক সহযোগীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও আটজনকে আসামি করে উজিরপুর থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় মনির সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনির সরদারকে তাঁর সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনির সরদারকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক সুজনকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংগঠনের গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।