এবারের ঈদযাত্রায় নদীপথে দুর্ভোগ সবচেয়ে কম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি দাবি করেছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া নেওয়ার নজিরও দেখা যাচ্ছে এবার।
গতকাল সোমবার রাতে বরিশাল নদীবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্ধারিত ১০ শতাংশ ভাড়া কমানোর নির্দেশনা অনুযায়ী চার্ট লঞ্চে টাঙানো আছে কি না, তা সরেজমিনে দেখা হয়েছে। ডেক ও কেবিন—দুই ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এটা আগে কখনো দেখা যায়নি। আগে ঈদযাত্রা মানেই দুর্ভোগ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রীদের ভোগান্তির কথা শোনা যেত। কিন্তু এবার তেমন অভিযোগ নেই, যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরাও স্বস্তিতে যাত্রা করছেন বলে জানিয়েছেন।
নৌ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা আছে; তবে যতটুকু আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সৎভাবে কাজ করার। সেটি জনগণই মূল্যায়ন করবেন।’ লঞ্চঘাটে যাত্রী ডাকার প্রবণতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা বা যাত্রীদের সঙ্গে টানাহেঁচড়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে লঞ্চমালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে রাজিব আহসান বলেন, একটি লঞ্চের পেছনে আরেকটি লঞ্চ ভেড়ানো ঠেকাতে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক রাখতে ঘাট এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভিড় নিয়ন্ত্রণেও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। নৌকা থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠার প্রবণতাও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার খোঁজ নেন। এ সময় বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।