মামলা
মামলা

নাটোর-৩ আসন

জিয়া পরিষদের নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, নিরাপত্তা চান বিএনপির প্রার্থী

নাটোরের সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিম হত্যার ঘটনায় করিম বাহিনীর প্রধান আবদুল করিমসহ সাতজন আসামির নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সিংড়া থানায় করা এই মামলার বাদী হয়েছেন নিহতের ভাতিজা হাসানুর রহমান।

হত্যার আগমুহূর্তে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে দুর্বৃত্তরা ওই নেতাকে গলা কেটে হত্যা করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মামলার এজাহারনামীয় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সিংড়া থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নিহত কলেজশিক্ষক রেজাউল করিমের ভাতিজা হাসানুর রহমান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাতজন আসামির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় স্থানীয় করিম বাহিনীর প্রধান আবদুল করিমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তবে অন্য আসামিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর বলেন, ঘটনার আগমুহূর্তে আসামিরা নিহত রেজাউল করিমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়। বাদীর অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনার পরপরই আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত হতে দেরি হচ্ছে।

নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থীর নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন


দুর্বৃত্তদের হামলায় নিজের নির্বাচনী কর্মী খুন হওয়ার পরপরই পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীনের কাছে এই আবেদন করেন। তবে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তাঁকে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনটি তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা যাচাই-বাছাই করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বিএনপি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার রাত ১১টায় সিংড়ার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া কদমতলায় তাঁর নির্বাচনী কর্মী জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তদের কেউ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। ফলে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। তাঁকে প্রায় সময় গ্রামেগঞ্জে ভোট চাইতে বের হতে হচ্ছে। এ কারণে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইফতে খায়ের আলম প্রথম আলোকে বলেন, নিরাপত্তার আবেদনটি যাচাই করা হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে সিংড়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আবেদনকারী প্রার্থীর নিরাপত্তার ব্যাপারেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি যেসব স্থানে সভা–সমাবেশ করছেন, সেখানে সাদাপোশাকের পুলিশের নজরদারি থাকছে। কিন্তু তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে পুলিশি নিরাপত্তা প্রহরী দেওয়া সম্ভব হয়নি।