
একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন ফাতেমা আক্তার। চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনে যাওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার ভোরে চাঁদপুর রেলস্টেশনে যান তিনি। ছিনতাইয়ের শঙ্কায় স্বজনদের সব স্বর্ণালংকার ও টাকাপয়সা একটি ভ্যানিটি ব্যাগে রেখেছিলেন ফাতেমা। রেলস্টেশন থেকে সেই ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় মামলা করার পর চাঁদপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতিয়া নদীর একটি পন্টুনের সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ছিনতাই হওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪৮ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
ওই নারীর ব্যাগে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মুঠোফোন ছিল। ছিনতাইয়ের ভয়ে সব একত্র করে একটি ভ্যানিটি ব্যাগে রেখেছিলেন। পুলিশ ছিনতাইকারীদের থেকে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪৮ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে।নাদিরা নূর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চাঁদপুর
আজ রোববার দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার শ্রমিক কলোনি এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে মো. জাহিদ হোসেন (২১), একই এলাকার আবদুল মালেক কোড়ালীর ছেলে রাব্বি হোসেন (২৪) এবং একই এলাকার প্রয়াত শফিকের ছেলে জাহিদ (২১)।
ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ৫ নভেম্বর ভোরে চাঁদপুর রেলস্টেশন থেকে তাঁর ব্যাগ ছিনতাই হয়। ওই ব্যাগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মুঠোফোন ছিল। এ ঘটনায় ফাতেমার ভাই মো. মেরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, মামলার পরপরই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। প্রথমে চাঁদপুর শহরে অভিযান চালিয়ে হোতা মো. জাহিদ হোসেন ও রাব্বি হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গতকাল শনিবার ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে আরেক আসামি জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কিশোরগঞ্জ থেকে জাহিদকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ৪৮ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর বড় স্টেশনের ডাকাতিয়া নদীর ভিআইপি ঘাটের পন্টুনের ভেতরের সিঁড়ির নিচ এবং পন্টুনের সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। এ সময় সাত ভরি ওজনের সাতটি সোনার চেইন, তিন ভরি ওজনের পাঁচটি আংটি, আড়াই ভরি ওজনের চার জোড়া কানের দুল, দুই ভরি ওজনের দুটি চুড়ি, আড়াই ভরি ওজনের একটি হার ও এক ভরি ওজনের একটি ব্রেসলেট উদ্ধার হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর বলেন, ওই নারীর ব্যাগে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মুঠোফোন ছিল। ছিনতাইয়ের ভয়ে সব একত্র করে একটি ভ্যানিটি ব্যাগে রেখেছিলেন। পুলিশ ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪৮ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে। বাকি স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন ও টাকা উদ্ধার করা যায়নি। ইতিমধ্যে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।