
ছয় বছর বয়সে বাবা হারায় অংক্যথুই মারমা। এরপর সে বান্দরবানের রামজাদি অনাথাশ্রমে থাকা শুরু করে। এ বছর বান্দরবান সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে। কঠোর চেষ্টায় পেল জিপিএ-৫। এখন তার স্বপ্ন বিসিএস ক্যাডার হওয়া।
আজ বৃহস্পতিবার বান্দরবানে শিখো-প্রথম আলো এসএসসি জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে নিজের এ ইচ্ছার কথা জানায় অংক্যথুই। সকাল ১০টায় বান্দরবান সদর উপজেলা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়। অংক্যথুই বলে, ‘ছয় বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে দেখে এসেছি, দরিদ্র ও ক্ষমতাহীন মানুষ সরকারি সুবিধাবঞ্চিত। তাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। আমার মতো অনাথ ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি বিসিএস ক্যাডার হতে চাই।’
অবশ্য শুধু অংক্যথুই নয়। তার মতো জিপিএ-৫ পাওয়া আরও অনেক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে নিজেদের স্বপ্নের কথা জানায়। তাদের কেউ হতে চায় শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী আবার কেউ বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নের কথা বলে।
সকাল ৯টা থেকেই কৃতী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে উপজেলা মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে। প্রবেশমুখে ছিল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার। সেখানে খেলাধুলার আয়োজনের পাশাপাশি ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ফটো বুথ ও ফটো কর্নার। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমা।
অনুষ্ঠানে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান খান বলেন, ‘ভালো ছাত্র ও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য খুব বেশি কিছু দরকার নেই, মূল বিষয় হচ্ছে সময় মেনে চলা। নিয়মানুবর্তিতা মেনে পড়াশোনা, সময়মতো ঘুমানো, ঘুম থেকে ওঠা, মুঠোফোন ব্যবহারের সময়ের সচেতনতা ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকলে সাফল্য আসবেই।’
বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষক মেহেদি হাসান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অবশ্যই ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু এআইয়ের নিয়ন্ত্রণে গেলে চলবে না, এআইকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। মারমা শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি বলেন, একাডেমিক শিক্ষার সাফল্যের সঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চা ও বই পড়ার সঙ্গে যুক্ত হলেই মানবিক বিকাশ ঘটবে।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে না বলার শপথ পাঠ করান প্রথম আলো বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন রাজু। শিক্ষার্থীদের অনেকে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরে ও কবিতা আবৃত্তি করে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের শিল্পীরা মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পাখানৃত্য ও লোকনৃত্য পরিবেশন করেন।
এবারের আয়োজন পাওয়ার্ড বাই বিকাশ। সহযোগিতায় রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।