নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহের কয়েক শ ছোট মাটির ব্যাংক তুলে দেওয়া হয়েছে বাসদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের হাতে। সম্প্রতি বরিশাল নগরে
নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহের কয়েক শ ছোট মাটির ব্যাংক তুলে দেওয়া হয়েছে বাসদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের হাতে। সম্প্রতি বরিশাল নগরে

বরিশাল-৫ আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী মনীষা, মাটির ব্যাংকে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ

বরিশাল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী সিটি করপোরেশনের পর এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ও মেটাবেন অনুদানের টাকায়। তিনি শ্রমজীবীদের কাছ থেকে মাটির ব্যাংকে টাকা সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও অনুদান নিচ্ছেন।

মনীষা চক্রবর্তী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এই আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর আগে ২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বাসদের প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মনীষা। ওই নির্বাচনে মাটির ব্যাংকের টাকায় নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তিনি আলোচনায় আসেন। তাঁর নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি মানুষের নজর কেড়েছিল। মাটির ব্যাংকে সাধারণ মানুষের জমানো টাকায় চলেছিল তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রম।

এবারও মনীষা একই প্রক্রিয়ায় মাটির ব্যাংকে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করছেন। প্রচার শুরুর আগেই কয়েক শ ছোট মাটির ব্যাংক তুলে দিয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। অর্থদাতাদের বেশির ভাগই ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকচালক ও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক।

বরিশাল নগরের বিভিন্ন সড়কে প্রচারপত্র বিতরণ করে নির্বাচনী প্রচারণা করেন বরিশাল-৫ আসনের বাসদ ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরের সদর রোড এলাকায়

এ বিষয়ে মনীষা বলেন, নির্বাচনে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এর সবই গণচাঁদা এবং জনগণের দেওয়া অনুদান থেকে আসবে। এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ অনুদান এসেছে, তা জানতে চাইলে আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘মাটির ব্যাংকগুলো এখনো আমরা সংগ্রহ করিনি। এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে প্রচার চালানোর মতো লাখ তিনেক টাকার তহবিল রয়েছে। নির্বাচন মানেই তো প্রার্থীদের টাকার খেলা। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটা ব্যতিক্রম। উল্টো শ্রমিকেরা নির্বাচনের খরচ দিচ্ছেন।’

জনগণের জন্য রাজনীতি করেন জানিয়ে মনীষা বলেন, ‘আমরা কোনো কোটিপতির কাছে মাথা বিক্রি করে নির্বাচন করতে চাই না। কালোটাকা ও দুর্নীতির বাইরে গিয়ে আমরা স্বচ্ছতা ও সততার রাজনীতি করি। নির্বাচনেও আমরা সেটার প্রতিফলন ঘটাতে চাই, এ জন্য মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করব। কারণ, আমরা মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ।’

অনেক শ্রমিক খুশি মনে টাকা দিয়ে মনীষা চক্রবর্তীকে সহযোগিতা করছেন বলে জানান নগরের ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক আলী হোসেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। অনেক বড় বড় নেতার কাছে গিয়েও এ ব্যাপারে কোনো সহায়তা পাইনি। মনীষা চক্রবর্তী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, মনীষা চক্রবর্তী প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে থেকে নীরবে অথচ দৃঢ়ভাবে একটি স্বতন্ত্র জননেতৃত্বের অবস্থান তৈরি করেছেন, যা তাঁকে ভোটের মাঠে সুবিধা দিতে পারে। একই সঙ্গে মাটির ব্যাংকে মানুষের অর্থদান দানের বিষয়টি শুধু ব্যাতিক্রমী নয় বরং বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির ভেতর একটি গভীর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ।

যেভাবে আলোচনায় মনীষা চক্রবর্তী

ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও তিন চাকার যান চলাচলের বৈধতার দাবিতে রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বরিশালে পরিচিত হয়ে ওঠেন বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বরিশাল জেলা বাসদের সমন্বয়ক। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি নগরের প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের নানা দাবিতে সক্রিয়।

২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল রিকশা উচ্ছেদের প্রতিবাদে শ্রমিকদের মিছিলে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন মনীষা। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে তাঁকে নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

বাসদ নেতা শহিদ হাওলাদার জানান, মনীষা ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পেলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত থাকেন। তিনি গরিব মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেন এবং শ্রমিকদের অধিকার আন্দোলনে সক্রিয়। তাঁর দাদা ও বাবা মুক্তিযোদ্ধা। পারিবারিক ঐতিহ্যও তাঁকে পরিচিত করেছে।

বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফয়জুল করীম ও মনীষা চক্রবর্তীসহ ছয়জন প্রার্থী আছেন।