মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় মহাসড়কে যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাসটি পুড়ে গেছে। চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে চাকায় পিষ্ট হয়ে বাসের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন যাত্রী।
আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ডাসার উপজেলার মেলকাই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসে আগুন লাগায় মহাসড়কের দুই পাশে উৎসুক জনতা ভিড় করেন। এতে মহাসড়কে দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে যানচলাচল। দুই পাশে আটকা পড়ে কয়েক শ যানবাহন।
হাইওয়ে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বেলা তিনটার দিকে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসছিল সাকুরা পরিবহনের একটি বাস। বাসটি যাত্রাপথে তাদের নিজস্ব একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করে। এ সময় বাসচালকের সহকারী ওই ফিলিং স্টেশন থেকে একটি কনটেইনারে পেট্রল ভরে তা বাসের মধ্যে সংরক্ষণ করেন। বাসটি কিছু দূর গেলে কনটেইনারটি ছিদ্র হয়ে তেল পড়ে বাসের মধ্যে গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এ সময় চালকের সহকারী একটি পলিথিন ব্যাগ বের করে গ্যাস লাইটার জ্বালিয়ে ছিদ্রটি আটকাতে যান। এ সময় পেট্রল ভরা ওই কনটেইনার থেকে মুহূর্তেই বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। চলন্ত বাস থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে বাসের এক যাত্রী চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন। আহত হন বাসের মধ্যে থাকা অন্তত ১০ যাত্রী। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে চলন্ত বাসে অগ্নিকাণ্ডের খবরে উৎসুক জনতা ভিড় করেন মহাসড়কে। এ কারণে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বাসটিতে থাকা যাত্রী খায়রুল আলম বলেন, ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করার পর বাসটির চালকের সহকারী পেট্রল ভরা কনটেইনারের ছিদ্র ঠিক করার চেষ্টা করেন। তিনি পলিথিন গলিয়ে কনটেইনারে লাগাচ্ছিল। হঠাৎ কনটেইনার থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
কালকিনি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা খোকন জমাদ্দার বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে পানি দিয়ে আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। বাসের ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বাসটির ডান পাশের একটি চাকার নিচে একজনের লাশ পাওয়া গেছে।’
মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ বলেন, বাসটিতে ৪০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা দ্রুত নেমে যেতে সক্ষম হন। একজন পুরুষ যাত্রী চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে নিহত হন। তাঁর নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। এক যাত্রীর শরীরে অনেকটা পুড়ে গেছে। তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। আগুনে বাসটি পুড়ে গেলে মহাসড়কে যানজট বেধে যায়। উৎসুক মানুষের ভিড়ে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল।
ওসি আরও বলেন, বাসটিতে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে দুটি কারণ যাত্রীরা বলেছেন, একটি হলো বাসের মধ্যে থাকা পেট্রল থেকে, দ্বিতীয়টি হলো বাসের ইঞ্জিন গরম হয়ে যাওয়া। পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।