চট্টগ্রাম নগর পুলিশ আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনকারী একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে
চট্টগ্রাম নগর পুলিশ আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনকারী একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে

চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

চুরি–ছিনতাইয়ের মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর বদলে ফেলেন এক থেকে দুই মিনিটে

চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি হওয়া মুঠোফোনের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে পরিবর্তন করে ফেলত একটি চক্র। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মুঠোফোনগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে পারত না। এ কাজে চক্রের সদস্যরা একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করতেন, যা পাকিস্তানের এক হ্যাকারের কাছ থেকে সপ্তাহে এক হাজার টাকা দিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল। আর আইএমইআই পরিবর্তনের কৌশল ইউটিউব দেখে শিখেছিলেন।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনকারী একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানতে পেরেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাহাঙ্গীর হোসেন, সোহেল উদ্দিন, আবু সাঈদ, মো. শামীম ও সাইফুল ইসলাম। গতকাল বুধবার নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আইএমইআই হলো ১৫ সংখ্যার একটি স্বতন্ত্র নম্বর, যা প্রতিটি মুঠোফোনকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। একে ফোনের ‘ডিজিটাল আঙুলের ছাপ’ও বলা হয়। মুঠোফোন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার সময় অপারেটররা এই নম্বরের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ডিভাইস শনাক্ত করে। কোনো ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে এই নম্বর ব্যবহার করে সেটি ব্লকলিস্টভুক্ত করা যায়। ফলে অন্য কোনো সিম ব্যবহার করেও ফোনটি নেটওয়ার্কে সচল করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় এই নম্বরের মাধ্যমে চুরি যাওয়া ফোনের অবস্থান ও ব্যবহারকারীর তথ্য অনুসন্ধান করতে পারে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করা ১৫৭টি মুঠোফোন, পাঁচটি ল্যাপটপ, বিভিন্ন কোম্পানির ২০১টি সিম কার্ড, একটি মাইক্রোস্কোপ, ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা, ৪৪৫টি বিভিন্ন মুঠোফোনের কেসিং, আইএমইআই পরিবর্তনের মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত চুরি বা ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করা ঠেকাতেই তাঁরা দ্রুত আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে ফেলতেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আবু সাঈদ মূলত আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের কাজ করতেন। অন্যরা চোরাই মুঠোফোন সংগ্রহ ও বিক্রি করতেন। গ্রেপ্তারের পর আবু সাঈদ তাঁর ভাড়া বাসায় ল্যাপটপের মাধ্যমে পুলিশকে দেখিয়েছেন, কীভাবে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর এক থেকে দুই মিনিট সময় লেগেছে।

পুলিশকে আবু সাঈদ জানিয়েছেন, ইউটিউব দেখে তিনি আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের কৌশল শিখেছেন। এক বছর ধরে এ কাজ করে আসছিলেন। পাকিস্তানের এক হ্যাকারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে তিনি আইএমইআই পরিবর্তনের অ্যাপ সংগ্রহ করেন। অ্যাপটি ব্যবহারের জন্য প্রতি সপ্তাহে ওই হ্যাকারকে এক হাজার টাকা পরিশোধ করতেন।

ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সোহেলের বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের আটটি, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চারটি ও আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গাজীপুরে একটি মামলা রয়েছে।