
লিবিয়ায় আটক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৬ জন সাগর থেকে আটকের পর ত্রিপলীর একটি বন্দিশিবিরে ছিলেন। বাকিরা ত্রিপলীর ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ উদ্যোগে মানবিক সহায়তায় তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার পর লিবিয়ার বেসরকারি বিমান সংস্থা বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, লিবিয়া থেকে আসা ১৭৪ জন বাংলাদেশি আজ সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন। তাঁদের গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দূতাবাসের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও আইওএমের সহযোগিতায় এই ১৭৪ জনকে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৬ জন সাগর থেকে আটকের পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বলেন, অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার কারণে মানুষ শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এর বিরূপ প্রভাব তাঁদের পরিবার ও সমাজের ওপরও পড়ে।
রাষ্ট্রদূত দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ পথ অনুসরণের আহ্বান জানান।
এদিকে আগামীকাল বুধবার লিবিয়ার মিসরাতা শহর থেকে আরও ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা রয়েছে। তাঁরাও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী। দূতাবাস জানিয়েছে, একই মানবিক সহায়তার আওতায় তাঁদের প্রত্যাবাসন করা হবে।