কারাগার
কারাগার

গজালযুক্ত বাঁশের আঘাতে বাবার চোখ অন্ধ করার ঘটনায় ছেলের ১২ বছরের কারাদণ্ড

রাজধানীর বাড্ডায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গজালযুক্ত বাঁশ দিয়ে আঘাত করে বাবার চোখ নষ্ট করে দেওয়ার মামলায় ছেলে এমদাদুল হক বাদলকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি বাদলের স্ত্রী মোছা. রতনাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের নথি অনুযায়ী, এমদাদুল হক বাদলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৬ (গুরুতর জখম) ও ৫০৬ (ফৌজদারি ভীতি প্রদর্শন) ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দেন। তবে ৩০৭ ধারায় আনা হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে এ ধারা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাদলের স্ত্রী রতনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দেন।

মামলার এজাহার ও সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বাবা আব্দুল লতিফ ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় এবং তাঁর ছেলে বাদল তৃতীয় তলায় থাকতেন। ঘটনার দিন বাড়ির কেয়ারটেকার ছামিউল হক বাদলকে জানান যে তাঁর বাবা টাকা চাইছেন। পরে বাদল নিচে নেমে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়ান।

একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও গালিগালাজ শুরু হলে আব্দুল লতিফ প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদল প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের মাথায় কাপড় জড়ানো লোহার গজাল দিয়ে বাবার বাঁ চোখে আঘাত করেন। আঘাতে আব্দুল লতিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর বাদল তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করেন বলে আদালতে সাক্ষীরা জানান। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত জব্দতালিকা, মেডিকেল সনদ এবং নয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুল আলম আদালতকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি, হামলায় ব্যবহৃত বাঁশ, বাঁশের মাথায় লাগানো লোহার গজাল এবং সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। ফুটেজটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছিল।

আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে আসে, বাদল ও তাঁর বাবার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন চিৎকার শুনে ভবনের অন্য বাসিন্দারা বেরিয়ে এসে আব্দুল লতিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কয়েকজন সাক্ষী বাদলের হাতে বাঁশ দেখার কথাও আদালতে বলেন।

তবে আসামিপক্ষ শুনানিতে দাবি করে, ঘটনাটি সাজানো এবং আব্দুল লতিফ নিজে থেকেই পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। কিন্তু সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেনসিক আলামত পর্যালোচনার পর আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।