আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

এরশাদের মার্শাল লর সময় অনেককে বেআইনিভাবে আটক করে রাখার কথা সত্য নয়, জেরায় আমান আযমী

আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের উত্তরে সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, এরশাদের মার্শাল লর সময় অনেক লোককে বেআইনিভাবে আটক করে রাখার কথা সত্য নয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ মঙ্গলবার আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণীর জেরায় আবদুল্লাহিল আমান আযমী এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাঁকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

আইনজীবী আমিনুল গণী প্রশ্ন করেন, জেনারেল এরশাদের মার্শাল লর সময় আপনি অনেক লোককে বেআইনিভাবে আটক করে, বন্দী করে রেখেছিলেন। এর জবাবে আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, এ কথা সত্য নয়।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, ‘অপারেশন রেবেল হান্টের’ সময় তিনি সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাঁকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

জেরায় আবদুল্লাহিল আমান আযমী আরও বলেছেন, এরশাদের সামরিক শাসন আমলে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে কী কারণে বন্দী করে তাঁর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল, তা তিনি জানতেন না।

গতকাল সোমবার আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় আমান আযমী বলেছিলেন, ১৯৮৩ সালে এরশাদের সামরিক শাসন আমলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে তিনি (আযমী) তাঁর কোম্পানিসহ থাকতেন এবং মার্শাল লর দায়িত্ব পালন করতেন। তখন শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দী করে ওই বাড়িতে কয়েক দিন তাঁর অধীন রাখা হয়েছিল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণীর জেরায় আজকে আমান আযমী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আটক করিনি। কী কারণে উপরোক্ত তিনজনকে বন্দী করে আমার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল, তা আমি জানতাম না। তাঁদের আটকের কারণ জানার চেষ্টা করিনি; কারণ, আমি তখন সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত জুনিয়র অফিসার ছিলাম। তখন সামরিক শাসন চালু ছিল। এ ধরনের প্রশ্ন করার আমার কোনো সুযোগ ছিল না।’

জেআইসিতে গুম করে রাখার এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে সাব-জেলে আছেন তিনজন। তাঁরা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।