হাম শনাক্তের জন্য দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত পরীক্ষাগারে দৈনিক গড়ে দুই শ নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে পজেটিভ বা রোগ শনাক্ত হচ্ছে প্রায় এক শ নমুনায়। অর্থাৎ প্রতি দুজনের নমুনায় একজনের হাম শনাক্ত হচ্ছে। হাম শনাক্তের হার ক্রমেই কমে আসছে বলে পরীক্ষাগার সূত্রে জানা গেছে।
হাম শনাক্তে দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত একমাত্র পরীক্ষাগার আছে সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে। এর নাম ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরি। চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের সময় দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি ও কিছু বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আসা নমুনা এখানে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই তথ্যই সরকার প্রকাশ করছে। এসব নমুনা পরীক্ষায় রোগীর কোনো অর্থ ব্যয় হয় না।
শনাক্তের হার ৫১ দশমিক ৮২। প্রতি দুজনের নমুনা পরীক্ষায় একজন হামের রোগী পাওয়া যাচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)–এর পরীক্ষাগারে হাম শনাক্তের পরীক্ষা হয়। আইসিডিডিআরবি এই পরীক্ষা করে মূলত গবেষণার জন্য। এ ছাড়া অতি সম্প্রতি রাজধানীর বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল হামের পরীক্ষা শুরু করেছে। তারা রোগীর কাছ থেকে ফি নিয়ে এই পরীক্ষা করছে।
গতকাল শনিবার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৪৬১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে পোলিও ও হাম–রুবেলা পরিস্থিতি জানার জন্য এই পরীক্ষাগার ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষার জন্য রক্ত ও সোয়াবের নমুনা ব্যবহার করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই পরীক্ষাগারকে কারিগরি সহায়তা দেয়।
এর মধ্যে ২০ হাজার ৪৪৬ জনের নমুনা পজিটিভ হয়েছে। অর্থাৎ রোগ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৫১ দশমিক ৮২। প্রতি দুজনের নমুনা পরীক্ষায় একজন হামের রোগী পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশে পোলিও ও হাম–রুবেলা পরিস্থিতি জানার জন্য এই পরীক্ষাগার ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষার জন্য রক্ত ও সোয়াবের নমুনা ব্যবহার করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই পরীক্ষাগারকে কারিগরি সহায়তা দেয়। এই পরীক্ষাগারের তথ্যই হামের সরকারি তথ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। গত বছর এই পরীক্ষাগারে প্রায় ছয় হাজার নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৩২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল।
গতকাল শনিবার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৪৬১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
এ বছর হামের প্রাদুর্ভাব প্রথম অনুমান করেন এই পরীক্ষাগারের কর্মকর্তারা। এই পরীক্ষাগারের প্রধান খন্দকার মাহবুবা জামিল প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর ডিসেম্বরের দিকে হাম শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। জানুয়ারিতে শনাক্ত হয় ডিসেম্বরের দ্বিগুণ, ফেব্রুয়ারিতে জানুয়ারির দ্বিগুণ শনাক্ত হয়। তিনি আরও বলেন, এই পরীক্ষাগারের তথ্যের ভিত্তিতে সরকার ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে এবং ৫ এপ্রিল থেকে সেখানে শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু করে।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জন মানুষ চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এই সময় পরীক্ষাগারে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৪০ জনের।
হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ বছর মোট ৮৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই শিশু। এসব শিশুর অধিকাংশ হামের টিকা পায়নি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুইজনের এবং নিশ্চিত হামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৬৯ জনের এবং নিশ্চিত হামে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ বছর মোট ৮৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই শিশু। এসব শিশুর অধিকাংশ হামের টিকা পায়নি।