
পুরান ঢাকার হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ সড়কের (সদরঘাট-গাবতলী সড়ক) উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে আছে ট্যানারি বর্জ্য। এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বেড়িবাঁধ সড়ক–সংলগ্ন উন্মুক্ত ডোবায়। হাজারীবাগ এলাকার ময়লা পানি গড়িয়ে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা নদীতে। এতে পরিবেশদূষণ বাড়ছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও বাসযাত্রীরা।
বেড়িবাঁধ সড়কের জমি দখল করে শামিয়ানা টানিয়ে স্তূপ করে চামড়া রেখেছে কয়েকটি ট্যানারি৷ পথচারীদের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে ট্যানারির বর্জ্য থাকায় নাক চেপেও পার হওয়া দায়। ফলে দুর্গন্ধে অনেক পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবিলম্বে রাজধানীর প্রধান পরিবেশদূষণকারী এই ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর করা দরকার।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৪, ২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা নিয়ে এই ট্যানারি শিল্প গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ ট্যানারিই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে (হাজারীবাগ) পড়েছে। বেড়িবাঁধের দুই পাশে স্তূপ হয়ে থাকা বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব নিচ্ছেন না এই তিনটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা। তাঁরা বেড়িবাঁধ সড়ক একে অন্যের ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করেছেন। এই সড়ক দিয়ে গাবতলী থেকে বাবুবাজারে যানজাবিল, ব্রাদার্স ও প্রত্যাশা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড নামে তিনটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের যাত্রীবাহী বাসসহ লেগুনা ও রিকশায় দিনে কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করছেন। বর্জ্যের দুর্গন্ধে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দারা। ডিএসসিসির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সেলিম বলেন, ‘ট্যানারির বর্জ্য রাখার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় বেড়িবাঁধ সড়কে তা ফেলছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এই সড়কটি আমার ওয়ার্ডের নয়।’ একই কথা বলেছেন ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নুর আলম।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজারীবাগের শহীদ বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সামনে থেকে পশ্চিম ধানমন্ডি পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশের স্তূপ হয়ে আছে ট্যানারির বর্জ্য। আর হাজারীবাগসহ আশপাশের এলাকার ট্যানারি বর্জ্য ভ্যানে করে ফেলা হচ্ছে কারুনগর এলাকার প্রায় ছয় একর আয়তনের একটি ডোবায়। এই বর্জ্যের দুর্গন্ধে নাক-মুখ চেপে এলাকা পার হওয়ার চেষ্টা করছেন পথচারী ও বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা। এ ছাড়া ঝাউচর এলাকায় বেড়িবাঁধ সড়ক দখল করে শামিয়ানা টানিয়ে পৃথক দুটি স্থানে চামড়া রেখেছে মধু হাজি ট্যানারি ও এক্সিম লেদার।
এক্সিম লেদারের কর্মী ইসমাইল হোসেন বলেন, গত ঈদুল আজহার রাত থেকে এখানে শামিয়ানা টানিয়ে চামড়া রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৯৮ হাজারীবাগে অবস্থিত। মধু হাজি ট্যানারির এক কর্মী বলেন, ঈদুল আজহার সময় এসব চামড়া কেনা হয়েছিল। কিন্তু ট্যানারির ভেতর জায়গা না থাকায় শামিয়ানা টানিয়ে বাইরে রাখা হয়েছে।
ডিএসসিসির ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি ট্যানারির দুর্গন্ধের বিষয়ে শহীদ বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। মহাবিদ্যালয় এলাকায় তিনটি ট্যানারিকে বর্জ্য ফেলতে নিষেধ করেছি।’ তিনি বলেন, ট্যানারিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের কারণে কয়েক দিন পরপরই এলাকার বাসাবাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে রাজধানী থেকে ট্যানারি স্থানান্তর করা দরকার।