প্রকল্প এলাকার জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে তথ্য গোপন করায় ভারতের পরিবেশ আদালত গ্রিন ট্রাইব্যুনাল কোরিয়ান স্টিল মিলস করপোরেশনের ২০০ কোটি ডলারের একটি বড় প্রকল্প আটকে দিয়েছে। বাংলাদেশের পরিবেশ আদালত এ ধরনের নজির সৃষ্টি তো দূরে থাক, ২০১২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত এখানকার আদালতে কেউ অভিযোগ পর্যন্ত করেনি। পরিবেশ রক্ষায় এই আদালত তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা পরিবেশ আদালত আইনকে যুগোপযোগী করতে এটি সংশোধন বা নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। এ ছাড়া আইন প্রয়োগের সঙ্গে পরিবেশবিষয়ক গবেষণা, বিজ্ঞানী ও নাগরিক সংগঠন-এগুলোকে যুক্ত রাখার পরামর্শ দেন তাঁরা।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক পরিবেশ আদালত আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে দু-তিন দিনের মধ্যে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০০ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় পরিবেশ আদালত আইন প্রণয়ন করে, ২০১০ সালে এই আইন সংশোধন হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের এই আমলের মধ্যেই এ আইনটিকে যুগোপযোগী করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ঋত্বিক দত্ত ভারতের গ্রিন ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, পৃথিবীতে একমাত্র ভারতেই এই ট্রাইব্যুনালে যেকোনো নাগরিক যেকোনো প্রকল্পের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে। পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কায় এ আদালত এখন পর্যন্ত অনেকগুলো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, খনি প্রকল্প বাতিল করেছেন।
বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ আদালত আইনের নানা দুর্বল দিক তুলে ধরে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে তবেই এ আদালতে মামলা করা যায়। ফলে মামলার রায় পেতে পেতে অনেক সময় পাহাড় কাটা, জলাশয় ভরাটসহ পরিবেশ ধ্বংসকারী অনেক কাজ শেষ হয়ে যায়।
পরিবেশ আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী উচ্চ আদালতে পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন মামলার অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সবচেয়ে বড় বাধা তৈরি করে প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনীতিবিদেরা। পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন শাখার পরিচালক জাফর সিদ্দিকী পরিবেশ আদালতের দুর্বলতা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, দেশের উচ্চ আদালত জাহাজভাঙা শিল্প নিয়ন্ত্রণ, ঢাকার চারপাশের চার নদী, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ রক্ষাসহ নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। পরিবেশ রক্ষার চেয়ে ধ্বংসের তৎপরতা অনেক বেশি দ্রুততর বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘পরিবেশ আইন তো বাস্তবায়ন করবেন আপনারা। ফলে আপনাদের দক্ষতাও বাড়াতে হবে।’
কর্মশালায় যুক্তরাজ্য সরকারের বৈদেশিক বিষয়ক উন্নয়ন সংস্থা ইউকেএইডের কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিস বিভাগের দলনেতা জিরোমি সাইরি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান এ এন এম ওয়াহেদ, ফিলিপাইনের আইন বিশেষজ্ঞ রোসে লিজা এইসমা ওসোরিও।