বগুড়ায় আসা ধূসর হনুমানকে চেতনানাশক দিয়ে ধরা হলো

দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসা হনুমানটি শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে উদ্ধার করে সামাজিক বন বিভাগ, বগুড়া ও ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রধান কার্যালয়ের বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট । বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয় বগুড়া , ০৫ মে । ছবি: সোয়েল রানা ,বগুড়া
দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসা হনুমানটি শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে উদ্ধার করে সামাজিক বন বিভাগ, বগুড়া ও ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রধান কার্যালয়ের বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট । বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয় বগুড়া , ০৫ মে । ছবি: সোয়েল রানা ,বগুড়া

বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঘুরে বেড়ানো ধূসর হনুমানটি জেলার শাজাহানপুর উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে জেলা বন বিভাগ। আজ শনিবার সকালে তিন ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের বিপরীত পাশের একটি বাড়ি থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।

বগুড়া বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হনুমানটি গত ১০ থেকে ১২ দিন বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ছিল। এটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। স্থানীয় লোকজন হনুমানটিকে বিভিন্ন জিনিস খাইয়েছে। লোকজন বিভিন্নভাবে আঘাতও করেছে। শেরপুর বন বিভাগ হনুমানটি নজরদারির মধ্যে রাখে। শেরপুর কার্যালয় হনুমানের বিষয়ে বগুড়া বন বিভাগকে অবহিত করে। একপর্যায়ে হনুমানটি শেরপুর থেকে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া সেনানিবাস এলাকায় আসে। বগুড়া বন বিভাগও সরেজমিনে হনুমানের অবস্থান দেখে। এখানে একটি গাছের ওপর ছিল হনুমানটি।

বিষয়টি জানার পর বগুড়া জেলা বন বিভাগ ঢাকার বন্য প্রাণী ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটকে জানায়। জানানোর পর বন্য প্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক ও আবদুল্লা আল সাদিককে বগুড়ায় পাঠানো হয়। গত শুক্রবার দুজন বগুড়ায় আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমান জানান, গতকাল সকালে অভিযান চালানোর জন্য বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় হনুমানটি গাছের ওপর ছিল। একপর্যায়ে এটি পাশের একটি ঘরের টিনের চালের ওপর দাঁড়ায়।

বগুড়া বন বিভাগ জানায়, সকাল সাড়ে আটটার দিকে চেতনানাশক ইনজেকশন (বন্দুকের মাধ্যমে) দেওয়া হয়। এটি দেওয়ার পর হনুমান পাশের ঘরের ছাদের ওপর গিয়ে দাঁড়ায়। এদিকে হনুমান ধরার জন্য আগে থেকেই খাঁচা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে চেতনানাশক দেওয়ার পর এমন প্রাণী তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ওপর থেকে মাটিতে পড়ে মারা যেতে পারে। সে কারণে আগাম প্রস্তুতি নেয় বন বিভাগ। হনুমানটি জীবিত উদ্ধার করার জন্য ত্রিপলও রাখা হয়েছিল। তবে হনুমানটি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। এমনকি নিচে লাফ দেওয়ারও চেষ্টা করেনি। পরে হনুমানটি অবচেতন হয়ে পড়লে খাঁচাবন্দী করা হয় সকাল সাড়ে নয়টির দিকে।

খাঁচার ভেতর উদ্ধার হওয়া হনুমানটি। বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয় বগুড়া , ০৫ মে । ছবি: সোয়েল রানা ,বগুড়া

বগুড়া সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, যশোর থেকে কলাবাহী ট্রাকে করে হনুমানটি বগুড়ায় আসে। হনুমান এভাবে উদ্ধার করা প্রকৃতপক্ষে কঠিন একটি কাজ। এই প্রক্রিয়ায় হনুমান ধরতে অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হয়। ইনজেকশন দেওয়ার সময় লক্ষ (টার্গেট) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওষুধের মাত্রা মাথায় রাখতে হয়। এ দুটির কিছুটা হেরফের হলেই প্রাণীটি মারাও যেতে পারে। তবে সব মিলে হনুমানটি ভালোভাবে ধরতে পারছি।’

সুবেদার ইসলাম আরও বলেন, ‘ধূসর হনুমান আমাদের দেশে খুব কম আছে। শুধু যশোর এলাকায় এটি দেখা যায়। বর্তমানে হনুমানটি বগুড়া জেলা বন বিভাগে রাখা হয়েছে। এখন হনুমানটি স্বাভাবিক হয়েছে। খাবারও দেওয়া হয়েছে। বিকেল রাজশাহী বন বিভাগের পাঠানো হবে। রাজশাহী কার্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে, হনুমানটি কোথায় রাখা হবে।’

উদ্ধার অভিযানে বগুড়া সামাজিক বন বিভাগের বন সংরক্ষক মো. আবদুল আওয়াল সরকার, শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বন্য প্রাণী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।