ফুল

বন কলমি

বন কলমি। খুলনা শহরতলির এক বুনো ঝোপের কাছ থেকে তোলা ছবি l লেখক
বন কলমি। খুলনা শহরতলির এক বুনো ঝোপের কাছ থেকে তোলা ছবি l লেখক

শীতের সকাল। খুলনা শহরতলির একটি কৃষি প্রতিষ্ঠানের বিশ্রামাগারে সকালের নাশতা সেরে হাঁটাহাঁটি করছি। একটি খেজুরগাছের গা-ঘেঁষে ঝোপঝাড়। খেজুরগাছটির গোড়ার কাছে শিকড় আঁকড়ে আছে এক বুনো লতা। লতাটির একটিমাত্র থোকায় কয়েকটি কলি এবং ফুটে আছে একটি ফুল। ফুলের পাপড়ির বর্ণ সাদাটে, মাঝখানটা হালকা গোলাপি। দেখতে ফানেলের মতো। ছায়াময় পরিবেশ। সূর্যের আলো কম থাকায় লতাটির বৃদ্ধি হয়তো অনেকটা ধীরগতির।
আগে এই কলমি ফুলের দেখা পাইনি। যত কলমিলতা দেখেছি, তার সঙ্গে এটির পাতার পার্থক্য চোখে পড়ল। পাতার আকৃতি অনেকটা ধনুকের মতো। পুরো কাণ্ডজুড়ে আছে অসংখ্য সাদাটে লোম। কলমিলতাটিকে শনাক্ত করতে পারলাম না। কিছু ছবি তুলে ভারতীয় কয়েকজন উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাই। কয়েক দিন পর তাঁরা এটিকে শনাক্ত করে দেন Ipomoea sagittifolia হিসেবে। পরে ঢাকায় ফিরে বই-পুস্তক ঘেঁটে জানতে পারি, এটির নাম বন কলমি। তবে বৈজ্ঞানিক নাম বদলে গেছে। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষ-এর সপ্তম খণ্ডে এটির বাংলা নাম দেওয়া আছে বন কলমি এবং বৈজ্ঞানিক নাম Ipomoea maxima। তবে সেখানে কোনো ছবি নেই। এটি হয়তো বাংলাদেশ বন কলমির প্রথম তোলা ছবি। বাংলাদেশে এটি আগে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঝালকাঠি, নোয়াখালী ও পটুয়াখালী জেলায় পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বন কলমির আদি আবাস ভারতীয় উপমহাদেশ, উষ্ণমণ্ডলীয় আফ্রিকা ও চীন। বীজে বংশ বৃদ্ধি। মূলত ঝোপঝাড় ও গুল্মের বনে এ কলমিলতা জন্মে। ক্রমাগত কৃষিকাজের জন্য, বসতবাড়ি তৈরির জন্য ঝোপঝাড় ক্রমাগত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে নানান প্রজাতির লতাগুল্ম আজ বিপদাপন্ন। বন কলমি নামের এ লতাটি হয়তো এ কারণেই কম দেখা যাচ্ছে।
বন কলমি Convolvulacea পরিবারের লতা। ইংরেজি নাম Purple Heart Glory। নলাকার লতা, দৈর্ঘ্য প্রায় ৩-৫ মিটার। ফুল ২.৫ থেকে ৪ সেন্টিমিটার লম্বা। ভোরের আলো পেলেই ফুল ফোটে এবং দুপুরের আগে পাপড়ি বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত লোনা এলাকার মাটিতে এ লতা ভালো জন্মে। সারা বছরই ফুল ফোটে। ফুল ফুটলে ঝোপের মধ্যে এ লতাটি সবার দৃষ্টিগোচর হয়। বাহারি লতা হিসেবে এটিকে গ্রাম কিংবা শহরের বাড়িতে লাগানো যেতে পারে।