
সাঁতার জানার পরও রাজধানীর চারপাশে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে কেউ পড়ে গেলে তিনি মারা যাবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর এ চৌধুরী। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এসব নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। তাই এই দুই নদীতে মার্চ ও এপ্রিলে যদি কেউ পড়ে মারা যান, তবে তিনি সাঁতার জানেন না, এ জন্য মারা যাবেন না; পানির বিষাক্ততার জন্য মারা যাবেন।
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মনজুর এ চৌধুরী। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এ সভার আয়োজন করে।
নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, তিনটি শুশুক ভুলক্রমে তুরাগ নদীতে এসেছিল। সেগুলোকে পিটিয়ে মারা হয়নি। তারা বিষাক্ত পানিতে এসে মারা গেছে। ঢাকাবাসীর জন্য পানি (চারপাশের নদী) মরণ হয়ে দেখা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর পানির দূষণমুক্ত করতে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মনজুর এ চৌধুরী বলেন, ২০২৩ সালের ১৭ মার্চের আগে এই নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করা হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগামী জন্মদিনের আগে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এসব নদ-নদী দূষণমুক্ত করা হবে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘অনেকে বলেছেন, এটা অসম্ভব ব্যাপার। এত বছরে কেউ পারেনি। আমি তাদের বলি, নয় মাসে দেশ স্বাধীন করা গেলে চারটি নদী দূষণমুক্ত করা যাবে না, এটা হতে পারে না।’
মনজুর এ চৌধুরীর ভাষ্য, ‘ঢাকার চারপাশে দূষণের জন্য যদি কোনো একটা প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দায়ী করতে হয়, তাহলে আমি দায়ী করব ঢাকা ওয়াসাকে। ঢাকায় যত মলমূত্র, এর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ এই চারটা নদীতে যায়। এদের দায়িত্ব ছিল পয়োনিষ্কাশন লাইন করা। পয়োনিষ্কাশন লাইনের মাধ্যমে এসব যাওয়ার কথা ছিল ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে। কিন্তু তা সরাসরি গিয়ে পড়ছে নদীতে।’ খাল ও নালার দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি নেওয়া পর নদীর পানির দূষণমুক্ত করতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় দুই সিটির কঠোর সমালোচনা করেন মনজুর এ চৌধুরী।
চাঁদপুরে একজন ‘বালুসন্ত্রাসী’কে উৎখাত করার পর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বদলির ঘটনার হতাশা ব্যক্ত করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘চাঁদপুরে একজন বালুসন্ত্রাসী সাড়ে তিন শ বাল্কহেড দিয়ে মেঘনার মুখ চিরে চিরে খাচ্ছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কীভাবে তাদের উৎখাত করতে হবে।
তাদের সব ড্রেজার জব্দ করতে হবে। আমরা শেষ পর্যন্ত তাদের উৎখাত করতে পেরেছি। কিন্তু সমস্যা হয়েছে এর কয়েক দিন পরে সেখানে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, মৎস্যকেন্দ্রের প্রধান ও নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে।’
যাঁরা সৎ সাহসী ও মেধাবী, তাঁরা জনগণের সম্পদ রক্ষা এগিয়ে আসবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নদী রক্ষা কমিশনের এই চেয়ারম্যান। এইচআরপিবি সভাপতি মনজিল মোরসেদ আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছারোয়ার আহাদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) সুলতান আহমেদ, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, ডিবিসি নিউজের সম্পাদক প্রণব সাহা প্রমুখ।