
বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। শীত আসতে আরও প্রায় দুই মাস বাকি। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সারা দিন কড়া রোদ থাকলেও সন্ধ্যায় বইতে থাকে হিমেল হাওয়া। কুয়াশাও পড়ছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ঠান্ডা।
ঠাকুরগাঁওয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কোনো কার্যালয় নেই। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁও কার্যালয় এলাকার তাপমাত্রার হিসাব রাখে। ওই দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে গত কয়েক দিন ধরে দিনের বেলায় তাপমাত্রা থাকছে ২৯ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতে তা নেমে আসছে ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতির এই রূপ।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে বিদায় নেওয়ার পর এখন উত্তর দিক থেকে শীতল বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে শীত পড়তে শুরু করেছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা গ্রামের নারায়ণ রায় (৬৩) বলেন, ‘দিনত কঠিন রৈদ। গতর পুড়ি যাছে। কিন্তুক রাইতত ফির ঠান্ডা লাগিছে, সেলা কাঁথা ঢাকা নিবা হছে।’
ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের খালপাড়া মহল্লার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম (৫৯) বলেন, এখন রাতে কাঁথা গায়ে দিতে হয়। কিন্তু দিনে আবার পাখা চালাতে হয়। কয়েক দিন ধরেই সর্দি জ্বরে ভুগছেন বলে জানান এই নারী।
এলাকাবাসীরা জানান, সকাল বেলায় মাঝে মধ্যে পুরো এলাকা কুয়াশায় ছেয়ে যাচ্ছে। ঘাস ও গাছের পাতায় জমে থাকছে শিশির বিন্দু। মাঠের পর মাঠ সবুজ খেত ফোঁটা ফোঁটা শিশির বিন্দুতে ঢেকে থাকে। আবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে সূর্যের তাপ। সেই তাপ থেকে বাঁচতে অনেকেই মাথার ওপর ছাতা মেলে ধরেন। বিকেল হলে কমতে থাকে তাপমাত্রা। সন্ধ্যার পরপরই ঠান্ডা পড়তে থাকায় গায়ে চড়াতে হচ্ছে হালকা শীতের কাপড় । দিনে গরম, রাতের ঠান্ডায়-এমন আবহাওয়ায় এলাকায় বয়স্ক ও শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগও বেড়ে গেছে।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দুদিনে (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) ১৪৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯ শিশু ঠান্ডাজনিত রোগে ও ৪৭ শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। বাকিরা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার বর্হি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে আরও ১৭০ শিশুকে। তাদের অধিকাংশই ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ছিল।
হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক শাহজাহান নেওয়াজ জানান, দিনে গরম, কিন্তু রাতে ঠান্ডা অনুভব হচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে বিশেষ করে শিশুরা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, একটু সতর্ক থাকলে শিশুদের এসব রোগ এড়ানো সম্ভব। শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এখন আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। এই সময়ে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসা পেয়ে অধিকাংশ রোগীই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।