কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটির অভিযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন ও হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে সুগন্ধা বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। অবিলম্বে এ কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে জয়িতা টাওয়ারের সামনে মানববন্ধন করে বাপা। সংগঠনের সহসভাপতি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাপার নির্বাহী সদস্য ও নগরবিদ-স্থপতি ইকবাল হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম জাফর আলম দিদার, সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি আসাদুজ্জামান খান।
মানববন্ধনে জাকির হোসেন বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নয়। এটি রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্পদ। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ ও বালিয়াড়ি ধ্বংসের কারণে সৈকতের পরিবেশ ইতিমধ্যে হুমকির মুখে পড়েছে। উন্নয়নের নামে বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, প্রকৃতির ক্ষতি করলে তার পরিণতি কী হতে পারে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তা দেখিয়েছে। তাঁর দাবি, বালুর ওপর রাস্তা নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বালিয়াড়ি শুধু সৈকতের সৌন্দর্যের অংশ নয় উল্লেখ করে এম জাফর আলম দিদার বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও শক্তিশালী ঢেউ থেকে উপকূলকে রক্ষায় এটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে কাঁকড়া, কচ্ছপসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল এটি। বালিয়াড়ি কেটে রাস্তা নির্মাণ করলে উপকূলীয় ভাঙন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ঝুঁকি বাড়বে।
বালিয়াড়িকে সামুদ্রিক কাঁকড়া ও কচ্ছপের প্রজননক্ষেত্র উল্লেখ করে মিহির বিশ্বাস বলেন, পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সুগন্ধা বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ শুরু হওয়ায় উদ্বেগের কথা জানান বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির। তিনি প্রকল্পটি দ্রুত বন্ধের দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে বালিয়াড়িতে চলমান রাস্তা নির্মাণ বন্ধ, হাইকোর্টের (মামলা নম্বর ২২৬/২০১১) রায় ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন, অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ এবং বালিয়াড়িতে প্রকল্প নেওয়ার আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও বিশেষজ্ঞ মতামত বাধ্যতামূলক করা। একই সঙ্গে বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং কক্সবাজারে অবৈধভাবে টিলা-পাহাড় কাটা বন্ধের দাবিও জানানো হয়।